আম্মার ২৪ লাখ তুললেন হিসাব নেই ১৮ লাখের

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৬ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দীন আম্মার প্রায় ২৪ লাখ টাকা উত্তোলন করলেও এর বড় একটি অংশের ব্যয়ের হিসাব জমা পড়েনি। সাত ধাপে উত্তোলন করা ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা দেননি তিনি। বিপরীতে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন। রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়ের বিবরণসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নথি অনুযায়ী, বর্তমান রাকসু পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির জন্য রাকসু তহবিল থেকে মোট এক কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি। কিছু কর্মসূচি অবশ্য এখনো চলমান।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিএস সালাউদ্দীন আম্মার সাত ধাপে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিন ধাপে নেওয়া ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কোনো ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এই অর্থের মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপনের জন্য ৩ লাখ ২ হাজার টাকা, গত ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট বাবদ নেওয়া ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও গত ১৩ এপ্রিল রাকসু সদস্যদের দাপ্তরিক খরচ বাবদ নেওয়া ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা রয়েছে।

জানতে চাইলে সালাউদ্দীন আম্মার বলেন, রাকসুর মেয়াদের এখনো প্রায় ২ মাস বাকি আছে। আমার জিএস পদে মেয়াদের শেষ হওয়ার আগেই সব হিসাব বিল-ভাউচার জমা দেব। ভর্তি পরীক্ষার বুথ বসানোর সময় আমাদের ওইটা ছিল প্রথম দিকের বাজেট।

তখন ব্যয়ের ওপর ভ্যাট যোগ করা হবে এটা জানা ছিল না। ফলে ৩ লাখ টাকার হিসাব সমন্বয় করে বিল করা নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছে। রাকসু সদস্যদের জন্য নেওয়া ওই টাকার মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদকের হিসাব না আসায় সেটা জমা দেওয়া হয়নি। অন্য একটির হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে।

নথিতে দেখা যায়, জিএসের পর সবচেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন। তিনি সাত ধাপে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে চার ধাপে নেওয়া ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকার বিল-ভাউচার জমা হয়নি। এ ছাড়া ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের নামে ছয় ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নেওয়া হলেও তিনি ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার একটি কর্মসূচির ভাউচার জমা দিয়েছেন। তার বাকি ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার ভাউচার জমা হয়নি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, রাকসুর গঠনতন্ত্রে কোনো কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর হিসাব দিতেই হবে এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে সব প্রতিষ্ঠানের মতো রাকসুতেও হিসাব সংরক্ষণের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কিছু ভাউচার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়নি। সেগুলো সংশোধন করে দিতে বলা হয়েছে। অফিসের নির্ধারিত ফরম্যাটে ভাউচার প্রস্তুত করতে হয়। যেসব ভাউচার জমা পড়েছে, সেগুলোতে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অসংগতি পাইনি।

তবে বিল-ভাউচার জমা দেওয়া প্রসঙ্গে রাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, যেকোনো কর্মসূচি আয়োজন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল-ভাউচারসহ আর্থিক হিসাব জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর প্রতিটি অধিবেশনে এ বিষয়ে স্বচ্ছতা রাখার জন্য বলা হয়েছে। রাকসুর প্রতিনিধিরা একটু সময় চেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো টাকা ব্যয় করলে অবশ্যই বিল ভাউচার জমা করতে হবে। রাকসুকেও এই প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।

রাকসুর টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ : এদিকে রাকসু কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাবি শাখা ছাত্রদল। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, আমরা জানতে চাই, রাকসু নেতাদের এক বছরের মধ্যে এত টাকা কীভাবে দেওয়া হলো? আম্মারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি যদি আলিবাবা হতে চান, তাহলে রাবিতে ৪০ চোর কোথায়? এখানে ৪০ চোর নেই, আছে ১০ চোর। তাদের নেতা এই জিএস সন্ত্রাসী সালাহউদ্দিন আম্মার।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, তিনি আরও বলেন, রাকসুর বিভিন্ন সম্পাদকের কাছে এসব টাকার হিসাব জানতে চাওয়া হলে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছেন। রাবি প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, অনতিবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের কাছ থেকে সেই টাকা উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে হবে। আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আগামী রবিবার উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত