স্ত্রীকে হত্যার পর কবরস্থানে মাটিচাপা, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম

নরসিংদীর মাধবদীতে স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৩৯)-কে হত্যার পর মরদেহ গুম করার ঘটনায় স্বামীকে আটক করেছে মাধবদী থানা পুলিশ। গত বুধবার রাতে স্বামী শরীফ মিয়া (৪২)-কে তার শ্বশুরবাড়ি কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত স্ত্রী হোসনে আরা বেগম কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রামের মো. রহমান মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী শরীফ মিয়া মাধবদীর ভগিরথপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি মাধবদী গরুরহাট বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন।

মাধবদী থানা পুলিশ আটককৃত শরীফের বরাদ দিয়ে জানায়, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রীকে চর দিলে তিনি টিউবওয়েলের ওপর পড়ে অচেতন হয়ে যান। এরপর থেকে আর জ্ঞান ফেরেনি। কিন্তু স্বামী শরীফ স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে ঘরের মেঝেতেই লুকিয়ে রাখেন। পর দিন ১৮ আগস্ট রাত ১০টার পর বাড়ির পাশের একটি কবরস্থানে একাই কাঁধে করে নিয়ে যান এবং সেখানে মাটিচাপা দিয়ে চলে আসেন। সবাইকে জানান তার স্ত্রী রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এর পরদিন ১৯ আগস্ট দুপুরের দিকে মাধবদী থানায় স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে মর্মে তার শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরি করতে চান। এ সময় স্বামী শরীফ মিয়ার কথাবার্তা সন্দেহজনক হলে পুলিশ জিডি না নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলে। শরীফ মিয়া অভিযোগ দায়ের করে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরে পুলিশের সন্দেহ হলে পুলিশ তার শ্বশুরবাড়ি থেকে শরীফ মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশি জেরার এক পর্যায়ে শরীফ মিয়া স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেন।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, স্ত্রী হত্যার দুই দিন পর থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে চান স্বামী শরীফ মিয়া। এ সময় তার কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হলে তাকে নজরে রাখি। এক পর্যায়ে তাকে জেরা করলে তিনি স্ত্রী হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন এবং লাশ কোথায় মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন সে ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি আরও জানান, লাশ উত্তোলনের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে আসবেন। এরপরই লাশ ওঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত