সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য নয়াদিল্লি অপেক্ষা করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকা-ে ৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি জানান, মর্মান্তিক এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতাসহ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা বাস্তবায়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটি একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফর নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য নয়াদিল্লি অপেক্ষা করছে।
এদিকে গতকাল সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকা-ে গতি ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের এ বৈঠক দুই দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।