শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

হাসপাতালে জেনারেটর আছে, বিদ্যুৎ নেই রোগীদের ওয়ার্ডে

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন প্রায় অর্ধলক্ষ গ্রাহক। শনিবার সকাল থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন উপজেলা ৫১ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীরা। হাসপাতালে জেনারেটর চালু করা হলেও সেটির বিদ্যুৎ রোগীদের ওয়ার্ডে সরবরাহ না হওয়ায় নারী, শিশু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে।

সূত্রে জানা গেছে, জরুরি লাইন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এর আগে শুক্রবার বিকেলে মাইকিং করে গ্রাহকদের বিষয়টি জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন।

তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায় শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। হাসপাতালটিতে দুটি জেনারেটরের মধ্যে একটি প্রায় দেড় মাস আগে মেরামত করা হলেও জেনারেটর চালু করার পরও রোগীদের ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেনারেটরের বিদ্যুৎ মূলত ডাক্তার ও নার্সদের কক্ষসহ হাসপাতালের কিছু অংশে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।

হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে মাঝেমধ্যে জেনারেটর চালু করা হয়। কিন্তু জেনারেটর চালু থাকলেও রোগীদের ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। ফলে প্রচণ্ড গরমে নারী ও শিশু রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক রোগী ও স্বজনকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়।

মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী আলোমতি, আলেয়া বেগম ও তাসলিমা বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে সকালে জেনারেটর চালু করা হলেও রোগীদের ওয়ার্ডে সবসময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। অথচ হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সদের বিভিন্ন কক্ষে বিদ্যুৎ থাকে। এতে নারী ও শিশু রোগীদের প্রচণ্ড কষ্ট হয়।

পুরুষ ওয়ার্ডের রোগী জামির মিয়া ও আব্দুর রশিদও একই অভিযোগ করেন। তাঁরা বলেন, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুটি জেনারেটরের মধ্যে একটি বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে সেটি দিয়ে হাসপাতালের সব কক্ষে একসঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে রোগীদের ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ দেওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে রোগীদের সংখ্যা ও জেনারেটরের বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি জানতে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছে তথ্য চাইলে এ প্রতিবেদককে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া রোগীর সংখ্যা বা সংশ্লিষ্ট তথ্য দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। পরবর্তী দিন এসে তথ্য নেওয়ার কথা জানানো হয়।

শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশরাত জাহান ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন নষ্ট থাকার পর মেরামত করা জেনারেটর দিয়ে হাসপাতালের সব কক্ষে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। লাইনের ত্রুটি মেরামত করে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাতেও দুর্ভোগ দেখা দেয়। তবে হাসপাতালের মতো জরুরি সেবাপ্রতিষ্ঠানে জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও রোগীদের ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পৌঁছানোর বিষয়টি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত