পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় কাঠামোয় যোগদানে সরকারের মনোভাব ইতিবাচক 

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৬ পিএম

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তাতে যোগদানের সম্ভাবনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে সোমবার (১৭ আগস্ট) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় রেখে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যোগদানের সম্ভাবনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।’ 

হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মো. বিন সালমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রিয়াদ সফরের জন্য যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, এই গ্রীষ্মের পরপরই তা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাতে ন্যাটো-ধাঁচের সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিনটি দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য হবে। তবে তিনটি দেশই জোর দিয়ে বলেছে, এই চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।  

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করছে, যেখানে বাণিজ্য এবং দ্বিপাক্ষিক জনগণের মধ্যে সংযোগের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনৈতিক সংলাপ এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে। 

ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের শীর্ষ পর্যায়ের সফর ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের ‘মানসিকতা’ বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে।  

তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশটিকে অবশ্যই বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা সঠিকভাবে বুঝতে হবে, যা ১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত