সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক

১ সেপ্টেম্বর থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহকরা

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা মূল অর্থ স্কিমে নির্ধারিত সীমার বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। 

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না। একই সঙ্গে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ স্কিমে নির্ধারিত সীমার বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদারের সাক্ষাতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে গভর্নর আমানতকারীদের মধ্যে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাংকটিকে স্পষ্টভাবে জানাতে বলেন যে, তাদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট আরোপ করা হবে না। মহান জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীও আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে যে অস্পষ্টতা রয়েছে, তা দূর করতে কার্যকর প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে। আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা। এ জন্য ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন ব্যাংকটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে দ্রুত ফিরে যাওয়া।

এ অবস্থায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাংকের স্বাভাবিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, তারল্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং ব্যাংকটির নিয়মিত কার্যক্রমে ফেরার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সাক্ষাতে গভর্নর ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আমানতকারীদের সঙ্গে স্বচ্ছ ও স্পষ্ট যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে মুনাফার ওপর হেয়ারকাট না থাকার বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত