সংস্কারের অভাবে বিলীন পাবনার বড়শিলা সড়ক

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

একসময় মানুষের কোলাহল আর যানবাহনের ব্যস্ততায় মুখর থাকত যে পথ, দেখভাল আর সংস্কারের অভাবে এখন তা জনমানবহীন এক ভূতুড়ে পথে পরিণত হয়েছে। পিচঢালা পথের বদলে দাঁড়িয়ে আছে ঝোপঝাড়, আর দেখা মিলছে বিষধর সাপ ও শিয়ালের।

পাবনার বেড়া উপজেলার বড়শিলা-নলভাঙা-খাকছাড়া সড়কের বর্তমান দৃশ্য এটি। নির্মাণের এক দশকেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা এখন পুরোপুরি পরিত্যক্ত।

এলজিইডি সুত্রে জানা যায়, বিল এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১৩ সালে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। এর ফলে বেড়া পৌরসভার সঙ্গে চাকলা ও কৈতলা ইউনিয়নের পাচুরিয়া, হাটুরিয়া, বাঙ্গাবাড়ী জগন্নাথপুর, দমদমাসহ অন্তত ১০ গ্রামের প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হয়। তবে কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠলেও নিম্নমানের নির্মাণ ও বিলের পানির স্রোতে প্রথম বছর থেকেই এতে ভাঙন শুরু হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সালে ১০ কোটি টাকার একটি পুননির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাব করা হলেও তা অর্থ বরাদ্দের অভাবে অনুমোদন পায়নি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা সড়কের দুই পাশে পাটকাঠি শুকাচ্ছেন কৃষক। ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে পুরো রাস্তা। কাজলকুড়া বিলের মাঝ খানে দাড়িয়ে আছে একটি পরিত্যক্ত ব্রিজ। চারদিকে সুনশান নিরবতা। দেখে মনে হবে যেন বহুকাল ধরে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে না মানুষ ও যানবহন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিল এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা না করে সড়কটি নিচু ও সরু করে তৈরি করা হয়েছিল। বর্ষার পানি আর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গত ছয়-সাত বছরে সড়কটির পিচ-সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাই অসম্ভব। ফলে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে মুমূর্ষরোগী ও শিক্ষার্থীরা।

বড়শিলা গ্রামের বাসিন্দা জমেলা খাতুন বলেন, আগে এই পথ দিয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতাম। কিন্তু সড়কটি নষ্ট হওয়ায় আর যেতে পারি না। আগে দিনরাত এই সড়ক দিয়ে মানুষ ও গাড়ি চলাচল করত কিন্তু এখন আর করে না।

একই গ্রামের বাসিন্দা মো. হাসেম বলেন, বিলের মাঝখান দিয়ে সড়কটি হওয়ার ফলে মাঠ কৃষিপণ্য আনা নেওয়া আমাদের জন্য অনেক সহজ হতো। কিন্তু সড়কটি নির্মাণের পর আর কখনও সংস্কার না করায় ভেঙেচুরে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। বাড়িতে ফসল নেয়া তো দূরের কথা এই পথ দিয়ে এখন হেটেও যেতে পারি না।

খাকছাড়া গ্রামের বাসিন্দা হজরত আলী বলেন, সড়কটি দিয়ে বেড়া উপজেলা সদরে যাতায়াত অনেক সুবিধা হতো, এছাড়াও এই পথ দিয়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্য খুব দ্রুত হাট-বাজারে নেয়া যেত। এখন ১০ কিলোমিটার ঘুরে বাজারে যেতে হয়।

একই এলাকার কৃষক মিলন বলেন, ধান, পাটসহ আমাদের এই বিলে বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ হয়। সড়কটি পরিত্যাক্ত হওয়ায় মাঠ থেকে ফসল আনা নেয়ায় যেমন দূর্ভোগ পোহাতে হয় অন্যদিকে খরচও বেড়ে যায় দ্বিগুণ। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

কৈতলা গ্রামের আরিফ বলেন, অনেক আগে এই সড়ক দিয়ে কৈতলা গিয়েছি এসে দেখি সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী তাই ফিরে যাচ্ছি। আগে এই সড়ক দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যেত এখন যেতে পারে কিনা জানি না।

এ বিষয়ে পাবনার এলজিইডির নিবার্হী প্রকৌশলী (এক্সেন) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে সড়কটি নিমার্ণ করা হলে ভৌগলিক কারণে টেকেনি। ২০২২ সালে সংস্কারের প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও অর্থ বরাদ্দ না থাকায় পরে আর সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি সড়কটি পরিদর্শন করেছি। পাবনার উন্নয়ন প্রকল্প নামে জেলার একটি সমন্বিত প্রকল্প প্রস্তাবনা সরকারের উচ্চ মহলের বিবেচনায় আছে। সে প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পুননির্মাণের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত