পাবনার চাটমোহরে গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে তরুণদের উদ্যোগে বসছে ঐতিহ্যবাহী পুঁথি পাঠের আসর।
আবহমান গ্রাম-বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এমন আয়োজন করছেন আয়োজকেরা। এই ডিজিটাল যুগেও গ্রামীণ আমেজ বজায় রাখতে হাতে লেখা পোস্টারে চলছে প্রচার-প্রচারণা।
সম্প্রতি চাটমোহরের নতুন বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের দেয়ালে দেখা যাচ্ছে হাতে লেখা রঙিন কাগজের পোস্টার। দর্শক-শ্রোতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং পুরোনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতেই এমন ব্যতিক্রমী প্রচারণা করছেন তারা।
আগামীকাল (২৭ আগস্ট) বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারপাড়া গ্রামের কিতাব প্রামাণিকের বাড়ির উঠানে বসবে এই পুঁথি পাঠের আসর। চাঁদ, কুপিবাতি আর হারিকেনের নিভু নিভু আলোয় গায়েন তাঁর মায়াবী সুরের জাদুতে মাতিয়ে তুলবেন শ্রোতাদের।
বিলচলন ইউনিয়নের বাসিন্দা সজীব বলেন, ‘ছোটবেলায় দাদা-দাদির মুখে গল্প শুনেছি, বাস্তবে কখনো দেখিনি। কীভাবে পুঁথি পাঠ করা হয়, তা কাল দেখব।’
শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রনি বলেন, একসময় পুঁথি পাঠের আসরে ‘আমীর হামজা’, ‘আলিফ লায়লা’, ‘হাতেম তাই’, ‘কমলা সুন্দরী’, ‘আমি সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী’, ‘গাজিকালু ও চম্পাবতী’, ‘বিবি সোনাভান’ এবং ‘লাইলী-মজনু’র পুঁথি পাঠ করা হতো।
তিনি বলেন, ‘রাত হলেই হারিকেন বা বাতির মিটিমিটি আলোয় এলাকার সবাই মাদুরে বসে পুঁথি পাঠ শুনতাম। তবে এখন আর তা দেখা যায় না।’ তিনি বলেন, সে সময়ে হানিফা, হামজা, হাতেম তাই, সোহরাব-রুস্তম, জৈগুন বিবিসহ বীর চরিত্র নিয়ে রচিত কাব্যগুলোই বেশি জনপ্রিয় ছিল।
বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের পাবনা জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম কোরবান বলেন, যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, সার্কাস ও পুঁথি পাঠ ছিল গ্রামীণ জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। লোকজ উৎসবগুলো একসময় ছিল বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। তবে ভিন্ন সংস্কৃতির চর্চা, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন তা বিলুপ্তির পথে।
এ বিষয়ে পুঁথি পাঠের আয়োজক ডা. আতিক বলেন, ‘এই সাহিত্যটি সতেরো শতকের সাহিত্য। এরপর দীর্ঘদিন এটি বন্ধ ছিল। পরে আশি ও নব্বইয়ের দশকের দিকে আবার প্রচলিত হয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি সহজ হওয়ায় আমাদের আদি সংস্কৃতিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের আদি সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে হাতে তৈরি পোস্টারের মাধ্যমে পুঁথি পাঠের প্রচারণা করছি। সংস্কৃতি ভুলে যাওয়া মানে নিজেদের ভুলে যাওয়া। আমাদের যে আদি ও বর্ণিল সোনালি অতীত ছিল, সেটি জানাতেই নিজ উদ্যোগে এই পুঁথি পাঠের আয়োজন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, শুধু পুঁথি পাঠ নয়, পরবর্তীতে জারি-সারি গানেরও আয়োজন করতে চান তারা।
এ আসরে ‘বিবি সোনাভান’ পুঁথি পাঠ করবেন নব্বই দশকের শিল্পী আসাদুজ্জামান দুলাল। আর ‘গাজিকালু ও চম্পাবতী’ পুঁথি পাঠ করবেন মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক।
পাবনা ক্যাডেট কলেজে শতভাগ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২ জনই