ময়মনসিংহের ত্রিশালে একদিকে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিং, অন্যদিকে বাড়ছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। রাতভর বিভিন্ন স্থানে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা ও রিকশা-ভ্যানের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।
বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে সারাদেশে স্বাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নির্দেশনা থাকলে নিষিদ্ধ ইজিবাইক, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।
প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে তিন চাকার ছোট বাহনেও এসেছে পরিবর্তন। গ্রামের রাস্তায় নেই আগেকার সে প্যাডেলের রিক্সা-ভ্যান। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সে সকল রিক্সা-ভ্যানে ইলেক্ট্রনিক মোটর লাগিয়ে আনা হয়েছে পরিবর্তন। এ সকল রিক্সা-ভ্যানের ইলেক্ট্রনিক মোটর সঞ্চালনার জন্য ১২ ভোল্টের ৩ থেকে ৪টি ব্যাটারি স্থাপন করা হয়। এ সকল ব্যাটারিগুলো রাতভর বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দিতে হয়। রাতে চালানোর জন্য কিনে নেওয়া হয় আরেক সেট মটর যা সারাদিন চার্জে দেয়া থাকে। চার্জের জন্যেও উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজ। ৮০ শতাংশ চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজেই নিষিদ্ধ এসব বাহনের ব্যাটারি চার্জ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন। অনেক স্থানে চলছে মিটার টেম্পারিং এর মতো ঘটনা। এমনকি মহাসড়কগুলোতে এই যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
ত্রিশাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলায় ৪৮ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে প্রতিমাসে গড়ে দেড় কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলায় প্রায় ৫৫ হাজার বিপরীতে প্রতিমাসে গড়ে ৮৫ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য চার থেকে পাঁচটি বারো ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। এ ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জের জন্য প্রয়োজন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা আর পুরো চার্জ হতে বিদ্যুৎ খরচ হয় প্রায় আট থেকে নয় ইউনিট। এছাড়া অটোরিকশা বা ভ্যানের চার্জের জন্যে খরচ হয় প্রায় তিন ইউনিট বিদ্যুৎ। একটি ইজিবাইক, অটোরিকশা বা ভ্যান দিনে রাতে পরিচালনা করার জন্য দুই সেট ব্যাটারি ব্যবহার করে থাকে।
ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সূত্র মতে, ইজিবাইক প্রায় দুই হাজার আর অটোরিকশা আর ভ্যানের সংখ্যা রয়েছে প্রায় সাত হাজার। সে হিসেবে উপজেলার প্রায় দুই হাজার ইজিবাইক চার্জে ব্যায় হয় ১৬ হাজার ইউনিট যা প্রতিমাসে গিয়ে চার লাখ আশি হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে সাত হাজার অটোরিকশা ভ্যানে প্রতিদিন ১৪ হাজার ইউনিট করে ৪ লাখ ২০ হাজার ইউনিট। প্রায় হাজার এসব ব্যাটারি চালিত বাহনের জন্য প্রতিমাসে প্রায় ১০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। যেসব গ্যারেজে চার্জের ব্যবস্থা রয়েছে তাদের অর্ধেকেরই বেশী গ্যারেজে চুরি করে ও লুকিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসব ব্যাটারি রিচার্জ করায় সরকার মোটা অংকের বিদ্যুতের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ত্রিশাল পৌর শহরের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে তুলনামূলক কম ভাড়া হওয়ার কারণে মূল শহরে এবং তার বাইরে এখন যাত্রীদের প্রধান বাহনে পরিণত হয়েছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিক্সা-ভ্যান। আর এগুলোর বেশিরভাগ চালকই সামান্য অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে গাড়িগুলোতে চার্জ করিয়ে নিচ্ছেন। তারা এই গাড়িগুলো যে গ্যারেজে রাখছেন সে জায়গা থেকেই রাতভর একটি গাড়ির শুধুমাত্র চার্জের জন্য গ্যারেজ মালিককে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে দিচ্ছেন। উপজেলায় বর্তমানে কমপক্ষে ৯ হাজারের বেশি ব্যাটারি চালিত রিক্সা-ভ্যান ও ইজিবাইক বা অটোরিকশা চলাচল করছে। বিশেষ করে ত্রিশাল পৌর শহর ও বাজার এলাকায় প্রায় ৪ হাজারের মতো রয়েছে।
ত্রিশাল পৌরসভা সূত্রে জানা যায় গত অর্থবছরে প্রায় ২৫০০ ইজিবাইক, অটোরিকশা ভ্যানকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজ ঘুরে জানা গেছে, এসব গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে অনেক বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। যে কারণে গ্যারেজ মালিকরা খরচ কমিয়ে বাড়তি টাকা আয়ের জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে থাকে। তবে এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার পেছনে রয়েছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের একদল অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
এ ব্যাপারে ত্রিশাল উপজেলার বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন জানান, চার্জিং পয়েন্টের জন্যে আমাদের দেড় শতাধিক সংযোগ রয়েছে। অবৈধ সংযোগের ব্যাপারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। অতি মাত্রায় লোডশেডিং এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় আমরা কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। আমাদের চাহিদার উপর যেভাবে পায় সেটুকুই বিতরণ করি। জ্বালানি ঘাটতি কারনেও লোডশেডিং হচ্ছে।
নড়াইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ট্রলির ধাক্কায় চালক নিহত
মুরাদনগরে আ.লীগের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার