বিদিশা কারাগারে

প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে ঢাকার গুলশানের অ্যারাবিকা কফি রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ।

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম

সাবেক রাষ্ট্রপতি, প্রয়াত হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে ঢাকার গুলশানের অ্যারাবিকা কফি রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ।

বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় ওই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী।

গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ‘একটি প্রতারণা মামলায় তিনি দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত। আদালত থেকে পরোয়ানা আসার পর আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি।’ 

জানা যায়, ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক মামলায় চলতি বছরের ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের নিকট সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়। ওই বছরের ১০ জুলাই ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। 

চুক্তি অনুযায়ী, রাজউকের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। 

ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। বাদীর অভিযোগ, বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। বরং ‘সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি’ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত