জিপিএ-৫ চূড়ান্ত অর্জন নয়, সামনে কঠিন পথ: ডাকসু জিএস

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

‘জিপিএ-৫ পাওয়াকে জীবনের আল্টিমেট অর্জন মনে করবেন না। সামনে আরও কঠিন যাত্রা আছে। এখন বিনয়ী হয়ে এক পয়েন্টে চেষ্টা করতে হবে’ এমন অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ। তিনি শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, এসএসসির ফলাফল সফলতার শেষ ধাপ নয় বরং এটি উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার বড় প্রস্তুতির শুরু।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার মমতাজ কনভেনশন হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রশিবির। আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ সাইফুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী রিয়াদুল এরশাদের সঞ্চালনায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়।

জিএস  ফরহাদ বলেন, যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে তাদের অনেকেই হয়তো ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ নাও পেতে পারে। আবার যারা জিপিএ-৫ পায়নি, তাদের অনেকেই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রতিযোগিতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সীমিত। তাই এসএসসির ফলাফলকে চূড়ান্ত সাফল্য মনে না করে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, এসএসসির পরের দুই বছর শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইন্টারমিডিয়েটে ভালো ফলাফল অর্জন করা। শিক্ষার্থীদের মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করার পরামর্শ দিয়ে ফরহাদ বলেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন হলে অনেক বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।
পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে ‘ডিপ ফোকাস’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া শুধু বই খুলে পড়লে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। কখন কী পড়তে হবে, কোন অধ্যায় শেষ করতে হবে-এসব আগে থেকেই নির্ধারণ করে পড়তে হবে।

তিনি নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে পড়ার পরামর্শ দেন। ২০, ৩০ কিংবা ৫০ মিনিটের ফোকাস সেশনে পড়াশোনা করলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। পড়ার সময় অন্য চিন্তা মাথায় এলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কাজে ব্যস্ত না হয়ে কাগজে লিখে রাখার পরামর্শ দেন ফরহাদ। তিনি বলেন, এতে মনোযোগ নষ্ট না করে নির্ধারিত সময়ের পড়াশোনা শেষ করা সম্ভব হবে।

পড়ার পরিবেশ নিয়েও শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সম্ভব হলে এমন জায়গায় পড়ার পরামর্শ দেন, যেখানে বাইরের কোনো বিষয় সহজে মনোযোগ নষ্ট করতে না পারে। শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ বলেন, “থিঙ্ক গ্লোবালি, অ্যাক্ট লোকালি।” অর্থাৎ নিজের অবস্থান থেকে কাজ করলেও চিন্তা ও লক্ষ্য হতে হবে বিশ্বমানের।
তিনি বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকট, বাবা কৃষক বা রিকশাচালক হওয়া কিংবা জীবনের নানা প্রতিকূলতা সাফল্যের পথে বাধা নয়। বরং এসব সংকটকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।

জীবনে একজন আদর্শ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফরহাদ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংকটের মধ্য দিয়েই মানুষ নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এতে প্রধান আলোচক ছিলেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবুল হাসান, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের অফিস সম্পাদক সারতাজ আরেফিন ফাহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত