আবাসন নির্মাণে ১০ হাজার কোটি টাকা দেবে চীন

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে চীন। একসঙ্গে পুরো অর্থায়ন সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করবে দেশটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই আগ্রহের কথা জানান।

বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির আধুনিকায়নে আবাসন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে চীনের কাছে পাঠানো হয়। চীন প্রস্তাবটি বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব এলাকায় ২০তলা ভবন নির্মাণ করে প্রতিটি পরিবারকে প্রায় ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ বর্গফুটের আবাসিক ইউনিট দেওয়া হবে। বর্তমানে বস্তিতে বসবাসরত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে নতুন ভবনে পুনর্বাসন করা হবে। এসব বাসার জন্য কোনো মাসিক ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল বাসিন্দাদের নিজেদের বহন করতে হবে। এরই মধ্যে প্রকৃত বস্তিবাসীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে ঢাকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে একটি চীনা কোম্পানি কাজ করছে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলের বর্জ্য ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বিষয়েও চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আর দাশেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগারের বাকি সংযোগের কাজ শেষ করতেও চীনের বিনিয়োগ চাওয়া হয়েছে। গুলশান, বারিধারা ও বনানীকে যুক্ত করতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও চীনের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও হাটবাজারসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকে দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত