যাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ, তাদেরই দিচ্ছে ব্রিটেনের পাউন্ড

জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত অন্তত ১৭টি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের সরকারি খাতের ১২৫টি চুক্তি পেয়েছে। এসব চুক্তির সম্মিলিত মূল্য ২ দশমিক ১২৯ বিলিয়ন পাউন্ড। এর মধ্যে শুধু মটোরোলা সলিউশন্সের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তির মূল্য ১ দশমিক ৭২৬ বিলিয়ন পাউন্ড। 

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০০ এএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাজ্য সরকার বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ দিচ্ছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। খবর আলজাজিরার।

আল জাজিরার এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১৭টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের সরকারি খাতের ১২৫টি চুক্তি পেয়েছে। এসব চুক্তির মোট মূল্য ২ দশমিক ১২৯ বিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ২১৩ কোটি পাউন্ড।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন, জরুরি সেবা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবস্থাপনাসহ ব্রিটিশ সরকারি খাতের বিভিন্ন কাজে চুক্তি পেয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি, কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য এবং করপোরেট প্রকাশনা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

এই অনুসন্ধান এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাজ্যের ১৪০ জনের বেশি লেবার পার্লামেন্ট সদস্য অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক স্টিফেন হামফ্রিজ বলেন, জাতিসংঘ যেসব প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ বসতিতে সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সরকারি চুক্তি অব্যাহত থাকায় দেশটি আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করছে কি না, সে বিষয়ে প্রমাণ বাড়ছে। 

মটোরোলার প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি ১৭৩ কোটি পাউন্ড

অনুসন্ধানে পাওয়া ১৭টি প্রতিষ্ঠান ও সত্তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান মটোরোলা সলিউশন্সের অধীনে থাকা কোম্পানিগুলোর।

মটোরোলা সলিউশন্সের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাজ্যের সরকারি অর্থ থেকে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি পেয়েছে। এর বড় অংশই এসেছে ব্রিটিশ সহযোগী প্রতিষ্ঠান এয়ারওয়েভ সলিউশন্সের মাধ্যমে।

মটোরোলা সলিউশন্সের অধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—এয়ারওয়েভ সলিউশন্স লিমিটেড, মটোরোলা সলিউশন্স ইউকে লিমিটেড, সিআরএফএস লিমিটেড, থ্রিটিসি সফটওয়্যার লিমিটেড ও নোগিন আইটি লিমিটেড—যুক্তরাজ্যের সরকারি খাতের ৯১টি সক্রিয় চুক্তি ধরে রেখেছে। এসব চুক্তির মোট মূল্য ১ দশমিক ৭২৬ বিলিয়ন পাউন্ড। 

এর মধ্যে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এয়ারওয়েভ সলিউশন্সকে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অ্যাম্বুলেন্সের জন্য নিরাপদ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সরবরাহের চুক্তি বাড়িয়ে দেয়। এর মূল্য ১ দশমিক ৫৬২ বিলিয়ন পাউন্ড।

এ ছাড়া মটোরোলা সলিউশন্স ইউকের আলাদা চুক্তির মূল্য ১২৩ দশমিক ৯ মিলিয়ন পাউন্ড। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি চুক্তিও রয়েছে, যার আওতায় এয়ারওয়েভ রেডিও, আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও যোগাযোগসেবা সরবরাহ করা হয়। 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর ২০২০ সালে বসতিসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় মটোরোলা সলিউশন্স ও এর ইসরায়েলি সহযোগী প্রতিষ্ঠান মটোরোলা সলিউশন্স ইসরায়েল লিমিটেডকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সর্বশেষ তালিকাতেও তারা রয়েছে।

ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি অবকাঠামোয় মটোরোলার প্রযুক্তি ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, হেবরন, কারমেই তজুর ও ব্রাখাসহ বিভিন্ন বসতিতে মটোরোলা নজরদারি ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে।

২০২৬ সালের মে মাসে ইসরায়েলি সরকারের একটি ক্রয়সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, মটোরোলা সলিউশন্স ইসরায়েল প্রায় ১৯ হাজার পুলিশ রেডিও রক্ষণাবেক্ষণ এবং এনক্রিপশন লাইসেন্স সরবরাহের জন্য ২৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন শেকেলের একটি চুক্তি পায়। চুক্তিটি ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। 

হাইডেলবার্গের কোম্পানির ১৮ কোটি পাউন্ডের চুক্তি

জার্মান নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের পাঁচটি কোম্পানি যুক্তরাজ্যের সরকারি খাতে ২৫টি চুক্তি পেয়েছে। এসব চুক্তির মূল্য ১৮৪ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন পাউন্ড।

এর প্রায় পুরোটাই হ্যানসন কোয়ারি প্রোডাক্টস ইউরোপ লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ ও মহাসড়ক সংস্কারের জন্য ওয়েস্টমরল্যান্ড অ্যান্ড ফার্নেস কাউন্সিলের কাছ থেকে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি পেয়েছে। সামারসেট কাউন্সিলের কাছ থেকে সড়ক সংস্কারের জন্য পেয়েছে আরও ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি। 

জাতিসংঘ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সঙ্গে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসকে যুক্ত করেছে।

এর ইসরায়েলি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হ্যানসন ইসরায়েল পশ্চিম তীরের কালকিলিয়ার দক্ষিণে নাহাল রাবা পাথরের খনির মালিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খনিটি ফিলিস্তিনি আজ-জাওইয়া ও রাফাত গ্রামের মালিকানাধীন জমির ওপর অবস্থিত।

তবে হাইডেলবার্গ আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে হ্যানসন ইসরায়েল নাহাল রাবা খনি এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাসফল্ট ও প্রস্তুত কংক্রিট কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ করেছে। সেখানে বর্তমানে শুধু নিরাপত্তাকর্মীরা রয়েছেন।

 

জেরুজালেমের রেল প্রকল্পে এগিস ও সিএএফ

ফরাসি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এগিসও অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবহন অবকাঠামো প্রকল্পে যুক্ত।

জাতিসংঘের তালিকায় বসতিগুলোর অস্তিত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তাকারী পরিবহন ও অন্যান্য পরিষেবা দেওয়ার সঙ্গে এগিসকে যুক্ত করা হয়েছে।

জেরুজালেমের সম্প্রসারিত লাইট-রেল নেটওয়ার্কে এগিসের সম্পৃক্ততা এখনও রয়েছে। ২০১৭ সালের জেরুজালেম ট্রান্সপোর্টেশন মাস্টার প্ল্যানের নথিতে এগিস রেলকে ব্লু ও গ্রিন লাইনের পরিকল্পনা ও নকশা তদারকির দায়িত্বে থাকা সাধারণ পরামর্শক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেমের লাইট রেল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোকে পশ্চিম জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করে। 

যুক্তরাজ্যে এগিসের নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান সরকারি খাতের ছয়টি চুক্তি পেয়েছে। এসব চুক্তির মূল্য ১৩৩ দশমিক ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড। এর প্রায় পুরোটাই এসেছে এগিস প্রজেক্টস ইউকে লিমিটেডের একটি চুক্তি থেকে। ব্রিটেনজুড়ে আইন প্রয়োগসংক্রান্ত সেবার জন্য ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকেল লাইসেন্সিং এজেন্সি প্রতিষ্ঠানটিকে ১৩৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি দিয়েছে।

অন্যদিকে স্পেনের ট্রেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিএএফও জেরুজালেমের লাইট-রেল প্রকল্পে যুক্ত। ২০১৯ সালে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরোর প্রকল্পটি ট্রান্সজেরুজালেম জে-নেট লিমিটেডকে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ৫০ শতাংশ মালিক সিএএফ এবং বাকি ৫০ শতাংশ ইসরায়েলি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শাপির।

সিএএফ জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় গ্রিন লাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেড লাইনের সম্প্রসারণ রয়েছে। এর কিছু অংশ পূর্ব জেরুজালেমের মধ্য দিয়ে গেছে। নির্মাণকাজ ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলার কথা।

জাতিসংঘ সিএএফকে বসতি সম্প্রসারণে সহায়ক সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহ এবং পানি ও ভূমিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

যুক্তরাজ্যেও সিএএফের বড় ধরনের সরকারি সম্পর্ক রয়েছে। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস কম্বাইন্ড অথরিটি প্রতিষ্ঠানটিকে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস মেট্রোর জন্য নতুন প্রজন্মের ট্রাম সরবরাহে ৮৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি দিয়েছে। চুক্তিটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। 

ফোসুনের সঙ্গে আহাভার যোগসূত্র

চীনা শিল্পগোষ্ঠী ফোসুন ইন্টারন্যাশনালকেও অধিকৃত ভূখণ্ডের পানি ও ভূমিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহারের সঙ্গে জাতিসংঘ যুক্ত করেছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফোসুনের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু ইসরায়েলি প্রসাধন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আহাভা ডেড সি ল্যাবরেটরিজ। ২০১৬ সালের এপ্রিলে ফোসুন জানায়, তারা ২৯০ মিলিয়ন শেকেলে আহাভা অধিগ্রহণে সম্মত হয়েছে। পরবর্তী বিধিবদ্ধ প্রতিবেদনে আহাভার ৯৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ মালিকানা ফোসুনের থাকার তথ্য উঠে আসে।

ইউরোপীয় কমিশনের ২০১৮ সালের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, অধিকৃত ভূখণ্ডে অবস্থিত মিতজপে শালেম বসতিতে আহাভার কার্যক্রম রয়েছে।

আমেরিকান ফ্রেন্ডস সার্ভিস কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও অবৈধ মিতজপে শালেম বসতিতে আহাভার সাবেক কারখানাটি চালু ছিল। সংগঠনটি জানিয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে মৃত সাগরের কাদা সংগ্রহ করে প্রথমে ওই স্থানে প্রক্রিয়াজাত করা হতো, পরে আরও উৎপাদনের জন্য আইন গেদিতে নেওয়া হতো। 

যুক্তরাজ্যে ফোসুন ইন্টারন্যাশনালের মালিকানাধীন সাংহাই ফোসুন ফার্মাসিউটিক্যালের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ব্রিয়াস মেডিক্যালের দুটি সরকারি চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির মোট মূল্য ১ দশমিক ২৯ মিলিয়ন পাউন্ড।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বাড়ার মধ্যেই এসব বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রায় দেয়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অব্যাহত উপস্থিতি বেআইনি এবং তা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর এমন পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা বা সহযোগিতা না করার বাধ্যবাধকতার কথাও আদালত উল্লেখ করে। 

এ কারণে জাতিসংঘের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

স্টিফেন হামফ্রিজ মনে করেন, যুক্তরাজ্য এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নিজস্ব তদন্ত শুরু না করেও আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হতে পারে।

তবে যুক্তরাজ্য সরকার চলতি মাসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবৈধ বসতিতে নির্মাণকাজের দরপত্রে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের কাজে যুক্ত হলে আইনি ও সুনামসংক্রান্ত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন আল জাজিরাকে বলেন, এই অনুসন্ধান যুক্তরাজ্যের ঘোষিত অবস্থান ও দেশটির অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলের দখলদারিত্বভিত্তিক অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট অফিস জানিয়েছে, প্রতিটি সরকারি কর্তৃপক্ষ চুক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে সরবরাহকারী বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশটির সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা কোনো দেশের সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারীকে বয়কট করার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়, যদি না যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো বিধিনিষেধ কার্যকর থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত