নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ড মারা গেছেন

নতুন রাজা হয়েছেন ছেলে হাকন

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৪ এএম

নরওয়ের রাজা পঞ্চম হারাল্ড গতকাল শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অসলোর জাতীয় হাসপাতালে মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। গত সপ্তাহে একটি বিরল রোগের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

অসলোর রাজপ্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজা হারাল্ড শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর প্রাসাদের রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় সাধারণ মানুষ প্রাসাদের সামনে ফুল রেখে রাজার আরোগ্য কামনা করেন।

ইউরোপের সবচেয়ে বয়স্ক এ রাজাকে গত ১৭ আগস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। রক্তে ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশনজনিত কারণে তার চিকিৎসা করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে রাজপ্রাসাদ। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় ছুটি কাটানোর সময় ইনফেকশনের কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং তখন তার শরীরে পেসমেকার বসানো হয়। এরপর থেকে কাজকর্ম কিছুটা কমালেও সিংহাসন ছাড়ার সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছিলেন রাজা। তিনি সবসময় বলতেন, রাজা হিসেবে নেওয়া তার শপথ আজীবনের।

হারাল্ডের মৃত্যুর পর তার ৫৩ বছর বয়সী ছেলে যুবরাজ হাকন নরওয়ের নতুন রাজা হয়েছেন এবং হাকনের স্ত্রী মেটে-মারিত হচ্ছেন দেশটির নতুন রানি। নতুন রাজা পরিচিত হবেন রাজা অষ্টম হাকন হিসেবে। ১৯৩৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অসলোর কাছে স্কাউগুম রাজকীয় এস্টেটে জন্ম নেন হারাল্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি নরওয়ে আক্রমণ করলে তিনি মা ও পরিবারের সঙ্গে প্রথমে সুইডেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন।

যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে পড়াশোনা ও সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করেন। ১৯৫৭ সালে যুবরাজ হন তিনি। বাবা রাজা পঞ্চম ওলাভের মৃত্যুর পর ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিংহাসনে আরোহন করেন হারাল্ড।

১৪ শতকের পর পঞ্চম হারাল্ডই ছিলেন নরওয়ের মাটিতে জন্ম নেওয়া দেশটির প্রথম রাজা। দীর্ঘ ৩৫ বছর সিংহাসনে থাকা হারাল্ড নরওয়েতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সংস্কারবাদী শাসক হিসেবে পরিচিত।

রাজপরিবারের চিরাচরিত ঐতিহ্য ভেঙে একজন সাধারণ পরিবারের নারীকে বিয়ে করেন এবং দেশের কঠিন মুহূর্তগুলোয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজা হারাল্ড রাজতন্ত্রকে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন। রাজপরিবারের পর্যবেক্ষকরা তাকে বিনয়ী ও সম্মানিত শাসক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত