বাড়ছে নদীভাঙন, কমছে ভিটেমাটি

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

গোপালগঞ্জে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে নদীভাঙন। মধুমতি ও বাঘিয়া নদীর তীব্র স্রোতে একের পর এক বিলীন হচ্ছে নদীর পাড়। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার আশ্রয় নিচ্ছে পাশের জেলা নড়াইলে। চলতি বছর জেলার পাঁচটি উপজেলায় নতুন করে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী পাড়ের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ৪৬টি পয়েন্টের ৫ কিলোমিটার এলাকায় যেকোনো সময় নদীভাঙন শুরু হেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীভাঙনের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরও বড় এলাকা ভাঙনের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সম্প্রতি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ডুবশি মোল্লাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মধুমতি নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। কোথাও বসতভিটা, কোথাও ফসলি জমি, আবার কোথাও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক। স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছেন তারা। তবে চলতি বছর নতুন করে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, এ বছর প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় পাশের জেলা নড়াইলের জেগে ওঠা চরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা বলেন, নদীভাঙনে শুধু ঘরবাড়ি নয়, ফসলি জমি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘গোপালগঞ্জে আগে থেকেই কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন ছিল। তবে চলতি বছর নতুন করে প্রায় এক হাজার মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীপাড়ের মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. কে এম বাবর বলেন, ‘জেলায় আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার এলাকায় নদীভাঙন রয়েছে। জেলার ৪৬টি পয়েন্টে সব মিলিয়ে ৫ কিলোমিটার এলাকায় কোথাও কোথাও ভাঙন শুরু হয়েছে আবার কোথাও ভাঙন শুরু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙনকবলিত এসব এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি নদীর গতিপথ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হারিয়ে আরও বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস হায়দার খান বলেন, ‘নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত