বেড়েছে চাষাবাদ খরচ

দুমকিতে শ্রমিক সংকটে আমন রোপণ বিলম্বিত

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে কৃষি শ্রমিক সংকটে রোপা আমনের চারা রোপণ বিলম্বিত হচ্ছে। চড়া মজুরি দিয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত শ্রমিক। স্বাভাবিক ৬০০ টাকার মজুরি বেড়ে ৮০০-৯০০ টাকা, কোথাও ১ হাজার টাকা দিলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা দক্ষিণাঞ্চলের মৌসুমি শ্রমিকদের আগমনের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সরেজমিনে পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও জমি প্রস্তুত হয়ে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে চারা রোপণ শুরু করা যাচ্ছে না। অনেক কৃষক আগাম চুক্তিতে দক্ষিণের শ্রমিক এনে কাজ চালাচ্ছেন। এতে খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে তেলের সংকট ও অতিরিক্ত দামে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিকের বাড়তি মজুরি। সব মিলিয়ে আমন চাষে খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক আবদুল মজিদ হাওলাদার বলেন, একই জমিতে বোরো করার পর এখন আমন রোপণ করছি। কিন্তু শ্রমিক সংকটে সময়মতো কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের কৃষক সৈয়দ জিয়া উল হাসান বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ছে, শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে। এত খরচ দিয়ে চাষ করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।

তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ চলছে। শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে উঁচু জমিতে রোপণ শুরু হয়েছে। ভাদ্র মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুমকিতে আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবাদ ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, শুরুর দিকে অতিবৃষ্টিতে বীজতলা তৈরিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। এখন চারার অবস্থা ভালো। কৃষকদের উচ্চফলনশীল জাত চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত