মাঠপর্যায়ে সার বিতরণে নিয়োজিত ডিলারদের মাধ্যমে তৈরি অস্থিরতা সামাল দিতে এবার নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এজন্য প্রতিটি ইউনিয়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একজন করে ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্য দিয়ে নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একজন করে ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হবে।
তবে এই পরিপত্র জারির আগে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা আরও এক দফা সংশোধন করা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট দ্বিতীয় দফা সংশোধনের মাধ্যমে এটি জারি করা হয়। এরই আলোকে ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় বিক্রয় প্রতিনিধির অংশ পরিবর্তন করে খুচরা বিক্রেতাদের বিধান ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া সংশোধন করে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে, আগে যেটি ‘২০২৫’ নামে জারি করা হয়েছিল।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আমন মৌসুমের শুরু থেকেই বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে কৃষককে। সার সংকটের অজুহাত তুলে ডিলাররা বেশি দামে বিক্রি করেছে। এই ডিলারদের একটি বড় অংশ আওয়ামীপন্থি এবং তারাই সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সারের বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করেছে। যেসব ডিলার সিন্ডিকেট করে এই অস্থিরতা তৈরি করছে তাদের চাপে রাখতে সরকার এবারে দ্রুত প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকার অবশ্য শূন্য ইউনিটে ডিলার নিয়োগের জন্য আগে থেকেই আবেদন সংগ্রহ করছিল।
তবে যারা শূন্য ইউনিটের জন্য আবেদন করেছেন সেখান থেকেই বাছাই করে এই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এজন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, দ্রুততম সময়ে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এজন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেসব আবেদন আসবে সেগুলো পরবর্তী ২ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠাবে। এই কমিটি আবার পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে এগুলো যাচাই বাছাই শেষে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন আবেদনকারীর আবেদন বাছাই করবে। এ তিনজনের নাম উপজেলা কমিটি আবার জেলা কমিটিতে পাঠাবে। জেলা কমিটি পরবর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যেই এই তালিকা থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে ডিলার হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন করবে।
জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট সংশোধন করে নীতিমালাটি জারির পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় গত ২৭ আগস্ট এটি সংশোধন করে জারি করা হয়।
সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী আগে যেখানে ডিলারদের মনোনীত বিক্রয় প্রতিনিধির কথা বলা হয়েছিল, সেখানে এখন খুচরা বিক্রেতার বিধান আনা হয়েছে। তবে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার কার্যক্রমকে ব্যাপক নজরদারিতে আনার জন্য নিবিড়ভাবে মূল্যায়নের জন্য ডিলারশিপ বাতিল বা নবায়নের কার্যক্রম গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সব সার ডিলার কৃষি মন্ত্রণালয়ের ডিলার হিসেবে পরিগণিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রতি দুই বছর পর পর ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের আইডি কার্ড নবায়ন করতে হবে এবং যার নামে এই নিবন্ধন থাকবে তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তা নবায়ন করতে হবে। এজন্য ডিলারদের ২ হাজার টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের ৫শ টাকা দিয়ে নবায়নের আবেদন করতে হবে। তবে মেয়াদ পূর্তির পরও ১৫ দিন পর্যন্ত নবায়নের আবেদন দেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং এজন্য ৫শ টাকা অতিরিক্ত ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ডিলারশিপ নিয়োগের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকতে চায়। কারণ সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণের সরবরাহ কোনোভাবেই যেন সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি না থাকে সেজন্য কাজ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এজন্য নিয়মিত পদ্ধতিতে ডিলারশিপ নিয়োগ এবং কেউ অপরাধ করলে দ্রুত তার ডিলারশিপ বাতিলেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নীতিমালা অনুযায়ী যারা অনিয়মে জড়িত এবং একই পরিবারে যাদের একাধিক ডিলারশিপ রয়েছে ধীরে ধীরে তাদের লাইসেন্সও বাতিল করা হবে।