চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে ২০২৭ সালের বাজেট ও কর্মীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সংস্থাটির বাজেট ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআরের বাজেট নথিতে দেখা গেছে, সংস্থাটি তাদের বাজেট ১৬ শতাংশ কমিয়ে ৭.১৪ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন কমিয়েছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটির অনুমোদিত পদের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ১২৬টি। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫১টিতে। ২০২৭ সালে এই সংখ্যা আরও কমে ৮ হাজার ৫৪০টিতে নামবে। এসব হিসাবের মধ্যে অস্থায়ী কর্মী ও ঠিকাদারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
জেনেভায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বৈঠকের নথির বরাতে জানা গেছে, এটি গত এক দশকের মধ্যে সংস্থাটির সর্বনিম্ন বাজেট। ২০২৫ সালে সংস্থাটির বাজেট ছিল ১০.৬ বিলিয়ন ডলার। মূলত প্রধান দাতা দেশগুলোর বৈদেশিক সহায়তায় ব্যাপক কাটছাঁটের কারণে এই গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষ দাতা যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছিল। এটি ইউএনএইচসিআরের মোট ৩.৬ বিলিয়ন ডলার অনুদানের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন কমে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, আগামী বছরের জন্য সংস্থাটির আয় সম্পর্কে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা ২০২৬ সালের মতোই। তিনি বলেন, সংস্থাটি এমন কিছু ‘অযৌক্তিক’ নীতির সংস্কার করবে, যার কারণে সর্বোচ্চ ১ হাজার কর্মীকে দীর্ঘ সময় ধরে এক দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর আরেক দায়িত্ব পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত চাকরিতে রাখা সম্ভব হবে।
সব অঞ্চলের জন্যই বাজেট কমবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমেরিকা অঞ্চল। সেখানে বাজেট প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে ৪৮৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ানোর কথা। এরপর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক এবং পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাজেট ২২ শতাংশ কমবে। এই অঞ্চলে বাংলাদেশে থাকা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী ইতিমধ্যেই আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার বাজেট কমবে ২১ শতাংশ। এই অঞ্চলে সুদানের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।
যদিও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, তারা জরুরি পরিস্থিতির ত্রাণ ও শরণার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। সংস্থাটির নিজস্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১৩ কোটি ১২ লাখে পৌঁছাবে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে আগামী অক্টোবরে সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।