ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ময়েনদিয়া বাজারটি পরমেশ্বরদী ইউনিয়নে অবস্থিত। বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান (আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানকারী) আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের (মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে) সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। সে সময় জিহাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাইয়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। মান্নান মাতুব্বর ও তার লোকজন এলাকা ছাড়লে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেয় জিহাদপন্থিরা। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মান্নান মাতুব্বরের অনুসারীরা এলাকায় ফিরলে পুনরায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবারের হামলার জের ধরে রবিবার সন্ধ্যায় পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় উভয় পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে ময়েনদিয়া বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরমেশ্বরদী গ্রামের কবির মোল্যা, কামরুল মোল্যা ও লোকমান মোল্যা গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন জানান, সন্ধ্যার পর আসা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর তিনজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ বলেন, রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক তার ওপর হামলা চালায়, এতে তিনি নিজে গুরুতর আহত হন। যুবদল নেতা মাহবুব হাসান সজিব জানান, বাজারকে মান্নান মাতুব্বরের প্রভাবমুক্ত করতে জিহাদকে উপদেষ্টা করা হয়েছিল এবং শনিবার মান্নান মাতুব্বরের লোকজনের হামলায় জিহাদ ও সোলায়মান আহত হন।
অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ী মজিবর রহমান মোল্যার দাবি, জিহাদ তার লোকজন নিয়ে এলাকায় হামলা ও চাঁদাবাজি চালান এবং ব্যবসায়ীদের চাঁদা না দিলে মারধর ও হুমকি দেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কুলাউড়ায় এনসিপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৫ নেতা