ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের।
শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের অভিযান দীর্ঘায়িত করা হলে অন্যান্য অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কমান্ডার।
এই সতর্কবার্তা ১৪ আগস্টের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর গোপনীয় ‘সেক্রেটারি অব ডিফেন্স অর্ডার্স বুক’-এর একটি সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী চার তারকা জেনারেলদের সঙ্গে মিলে এই মূল্যায়ন তৈরি করেন।
নথি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনার অবস্থান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং অন্যদের ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ড, প্যাসিফিক কমান্ড ও সাউদার্ন কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তে ‘নন-কনকার’ অবস্থান নিয়েছেন। অর্থাৎ, তারা হেগসেথের সেনা মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন, কিন্তু আদেশ অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করবেন।
ইরান যুদ্ধকে সহায়তা দিতে এসব ভৌগোলিক সামরিক কমান্ডের কাছ থেকে ইতোমধ্যে জাহাজ, বিমান ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নেতৃত্ব হেগসেথের সেনা মোতায়েন বাড়ানোর পরিকল্পনায় সম্মতি জানালেও এর সঙ্গে যুক্ত বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছে। মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি সামগ্রিক পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন এভাবে—ইরান অভিযান ‘অনেক বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে’।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছেন মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার বহরের মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ বর্তমানে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কডল আরও সতর্ক করেছেন, এই সহায়তা কার্যক্রম কখন শেষ হবে তার নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলে নৌবাহিনীর পক্ষে বর্তমান মাত্রার সহায়তা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
এদিকে, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদস্যদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়িয়ে এক বছর করা হচ্ছে। রোববার ডিভিশনের সদস্যদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন আর. টেগটমেয়ার এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কঠিন দিকটি স্বীকার করেন।
তিনি লেখেন, নেতৃত্ব বুঝতে পারছে যে দীর্ঘ সময়ের এই দায়িত্ব ‘প্রতিটি পরিবারের ওপরই, আমাদের নিজেদের পরিবারসহ, বড় চাপ তৈরি করছে।’
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘বর্তমান হুমকির মূল্যায়ন, প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত অগ্রাধিকার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানের পরামর্শ’ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।