ভাদ্রের ভারি বৃষ্টিতে সবজি চাষিদের মাথায় হাত

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

শ্রাবণ-ভাদ্র মাসজুড়ে টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শাকসবজি চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অতিবৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে নষ্ট হচ্ছে লাউ, শসা, বেগুন, পুঁইশাক, মরিচসহ বিভিন্ন শাকসবজি। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকায় গাছের গোড়ায় পচন ধরছে। অনেক জায়গায় ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে গাছ মরে যাচ্ছে কিংবা ফলন কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে আগাম শীতকালীন সবজির চারা রোপণ করা কৃষকেরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মুরাদিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে লাউ ও শসা লাগিয়েছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব বুঝতে পারছি না। শ্রীরামপুর ইউনিয়নের মো. ফারুক হোসেন জানান, তার ২০ শতাংশ জমির ঘেরে লাউ, করলা, পুইশাক, পেপে চাষ করেছিলেন। বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ গাছে পচন ধরায় ফলন বিপর্যয় ঘটেছে।  পাঙ্গাশিয়া এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, বেগুন ও মরিচ ক্ষেতে পানি জমে থাকায় গাছের বৃদ্ধি থেমে গেছে, অনেক গাছ এরই মধ্যে মরে গেছে। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে।

উপজেলার দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের কৃষক মাইনুল ইসলাম মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি জানান, মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করায় জমিতে অতিরিক্ত পানি জমেনি। ফলে চিচিঙ্গা, ধুন্দল, বেগুন, শসা, পুঁইশাক ও করল্লার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও বলছেন, আধুনিক এই পদ্ধতি জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে শিকড় পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং রোগবালাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদার ও উঁচু বেডে চাষের পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, কার্যকর সেচ-নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি না থাকায় প্রতিবছরই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসছে। এতে কৃষি খাতে ঝুঁকি বাড়ছে। তাই টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দুমকির সবজি উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে মাইনুল ইসলামের মতো কৃষকদের সফলতা দেখিয়ে দিচ্ছে-সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত