সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পর্কে কবি অরুণ মিত্রের কবিতাটি যারা পড়েছেন, তাদের কাছে এই লেখার শিরোনামটি অপরিচিত মনে হওয়ার কথা নয়—তিনি লিখেছিলেন, সুকান্তের যে-‘ছোট্ট বুকটা আর ছোট্ট মাথাটা অনবরত কবিতায় উথলে উঠত, তাদের নিঃশব্দ শেষ ডাক শুনতে পাওয়া গেল না।’ মাত্র একুশ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে মৃত্যুবরণকারী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পর্কে অরুণ মিত্রের এই কবিতাটি যেমন প্রাসঙ্গিক, তেমনি এটি প্রাসঙ্গিক আমাদের বাংলা কবিতা সম্পর্কেও, কারণ এর পরবর্তী পঙ্ক্তি হলো : ‘আমি নিশ্চিন্ত জানি, তা একদিন হঠাৎ চিৎকার করে উঠবে।’ কথা হলো, এই নিঃশব্দ ডাক কীভাবে, কার কণ্ঠ থেকে ধ্বনিরূপে চিৎকার হয়ে বের হবে? সব সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিয়ে সুকান্ত তো অকালেই বিদায় নিলেন, তার কণ্ঠে নিশ্চয়ই নিঃশব্দ বা সশব্দ কোনো প্রকার চিৎকারই আর শুনতে পাওয়ার কথা না। আর অরুণ মিত্র নিজেও তো ভিন্নরকম কাব্যচেতনার অধিকারী এক কবি, তাই সুকান্তের লড়াইয়ের সেই ‘তীব্র হারানো ভাষা’... ‘সকলের ঘরে এসে তোলপাড়’ সৃষ্টি করতে চাইলে নিশ্চয়ই বাংলা কবিতার ধারায় কোনো-না-কোনো কবির আসার কথা। সুকান্তের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে লিখিত অরুণ মিত্রের এই শোকার্ত কবিতায় যা বলা হলো, তা যেকোনো ফাঁপা ভাবনা নয়, অর্থাৎ কথাগুলো যে সে সময়ের অন্য এক যুগন্ধর ব্যক্তির মনেও গুঞ্জরণ তুলেছিল, তার প্রমাণ রয়েছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি নির্মোহ মন্তব্যে :
গভীরতা, ব্যাপ্তি, তীব্রতা, ভাবৈশ্বর্য ইত্যাদি সবকিছুর ধারক ও বাহক হিসাবে সাদামাটা স্পষ্টভাষী সার্থক কবিতা কল্পনা করতে আমরা অপটু ছিলাম, আমাদের অভিজ্ঞতা ও স্বীকৃতি গীতিকবিতা পর্যন্ত। সুকান্তের কবিতায় তাই বাংলা কাব্যসাহিত্যের নবজন্মের সূচনা ছিল।
বাংলা কবিতার ধারা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন মানিক, তা নিয়ে অতৃপ্তি আর অসন্তুষ্টিও ছিল তার প্রমাণ রয়েছে পরবর্তীকালে মুদ্রিত তার অপ্রকাশিত কবিতা সংকলনে। ফলে তিনি যে ভেবেচিন্তেই ‘নবজন্মের সূচনা’র কথা বলেছেন তাতে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। কিন্তু নবজন্মের সূচনা তো শেষ পর্যন্ত সূচনা হয়েই থাকল, অন্তত সুকান্তের মাধ্যমে আর যে বিস্তারিত হলো না, তা উদ্ধৃত মন্তব্যেই স্পষ্ট। কবিতার ভাষায় অরুণ মিত্রও তাই বললেন। তবে, তিনি যে ‘নিশ্চিত’ সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন, তা কি শেষপর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিতে পেরেছিল? এর উত্তর খুঁজতে গেলে এই দুই মহাজন সুকান্তের কাব্যচর্চাকে সূচনাপর্যায়ের সীমার মধ্যে যে বিবেচনা করলেন, সে কথাও মনে রাখা দরকার।
২.
সুকান্ত ভট্টাচার্য যখন কবিতা লিখতে এসেছিলেন, তখন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল আর জসীমউদ্দীনই কেবল সক্রিয় ছিলেন না, তিরিশের দশকের কবিরাও ছিলেন সক্রিয়; এমনকি সক্রিয় ছিলেন চল্লিশে দশকের কবিরাও, কারণ উনিশশ চল্লিশ সালের দিকে—মাত্র চৌদ্দ বছর বয়স থেকে—তার কবিতা লেখার শুরু। অর্ধযুগের কাব্যচর্চাকালে চারদিক থেকে নতুন আঙ্গিক ও নতুন বিষয়ের কবিতার দৃষ্টান্ত ও মোহময় হাতছানি সত্ত্বেও যে-শক্তির জোরে এমন সহজ স্বাভাবিক এবং অব্যর্থলক্ষ্য স্বরভাষ্য নিয়ে আবির্ভাব হলো কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের, তা হলো তার দায়বদ্ধতা, আরও স্পষ্ট করে বলতে চাইলে, সমাজ-বদলের প্রতি অকুণ্ঠ অঙ্গীকার, যা কিশোর বয়স থেকেই তিনি গ্রহণ করেছিলেন। এই সূত্রেই, ইতিহাসের বিশেষ পর্যায়ের চরিত্র ও গুরুত্ব উপলব্ধি করে সুকান্তকে ‘নোতুন ধারার প্রবর্তন’কারীরূপে চিহ্নিত করেছিলেন বদরুদ্দীন উমর। তার মতে, ‘উনিশ ও বিশ শতকের বাংলা কাব্যসাহিত্যের ইতিহাস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত-পুষ্ট জমিদার শ্রেণি এবং চাকরি ও ব্যবসাজীবী মধ্যবিত্তের সংস্কৃতিচর্চার এক বিশেষ অঙ্গ।’ এরপর নানা আলোচনার পর তিনি বলতে চেয়েছেন, বাঙালি বুর্জোয়াদের শ্রেণিগত মেরুদণ্ডহীনতার কারণে, অর্থাৎ ‘অসংগঠিত’ ও ‘অপরিণত’ বুর্জোয়া শ্রেণির প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও নজরুলের কাব্যও ছিল ‘অসংগঠিত’, ‘অপরিণত’ ও ‘দিক্ভ্রান্ত’। অন্য কবিদের চেয়ে নজরুলের অসাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবাদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করার পরও তার সম্পর্কে বদরুদ্দীন উমর যে-মূল্যায়ন করেছেন তার ভিত্তি হলো সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শ্রেণিচেতনা—যেখানে ব্যক্তি ক্ষমতাবান হলেও অসহায়। একই পরিস্থিতিতে, অর্থাৎ সুকান্তের আবির্ভাবকালে, সারা ভারতে কংগ্রেসের আধিপত্য সত্ত্বেও স্বাধীন সত্তা হিসেবে কৃষক-শ্রমিকের আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাদের মধ্যে এক নতুন জীবনচেতনার সঞ্চার হয়—সুকান্তের কণ্ঠে সে সময়েরই স্বর শোনা গিয়েছিল :
হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাঙলাদেশ
কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে
সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ
জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে।
এ কথা বলা যায় যে, এই ‘রুদ্ধস্বর’ই সুকান্তের কণ্ঠে মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিল এবং তার অর্ধযুগের কাব্যযাত্রায় এই বিশেষ ধারায় তিনি অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলেন। সুকান্তের এই কাব্যযাত্রাকেই বদরুদ্দীন উমর ‘নোতুন ধারার প্রবর্তন’ বলে চিহ্নিত করেছেন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায় যা ‘কাব্যসাহিত্যের নবজন্মের সূচনা’। একই মতবাদ ও সাহিত্যাদর্শের অনুসারী না হলে তাকে এই ধারার প্রবর্তক বা সূচনাকারী হিসেবে হয়তো সবাই মেনে নেবেন না, কারণ রবীন্দ্রনাথ, মোহিতলাল মজুমদার, নজরুল ও সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কাব্যে এই চেতনার কবিতা দুর্লভ নয়; তবে এ কথা অস্বীকার করারও উপায় নেই যে, এক্ষেত্রে কথায় ও কাজে তিনি ছিলেন প্রত্যয়নিষ্ঠ এবং অল্পসময়ে কয়েকটি কবিতা লিখেই তিনি তার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার প্রথম বইয়ের প্রথম/নামকবিতায় অসংখ্য পাঠকের মনের কথা অবলীলায় ব্যক্ত হয়েছিল বলে সেটি দ্রুত বিপুল জনপ্রিয় হয় এবং অন্যদিকে সেটি তার এবং অনুসারীদের জন্য অন্য আঙ্গিকের ইশতেহারও বটে :
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব—তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব—
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
কিছু আলোচক যেমন সুকান্তকে ‘কিশোর কবি’ হিসেবে ভাবতে অভ্যস্ত, তেমনি তার কবিতাকেও কৈশোরক ভাবনার কবিতা বলেও চিহ্নিত করতে চান, কিন্তু এগুলো স্পষ্ট চেতনার আলোকে লিখিত পরিণত কবিতারই উদাহরণ। রবীন্দ্র-পরবর্তী তিরিশের কবিদের কবিতার যে নিরীক্ষা, বিচিত্র বোধ-ভাবনা ও বহুমাত্রিক ইতিহাসচেতনা এসব কবিতায় নেই, অব্যবহিত মুগ্ধ পাঠক তাই এসব কবিতার দিকে সকরুণ দৃষ্টিতে তাকান এবং কবিতানিহিত চিন্তার প্রত্যয়শীল অনুসারী না হওয়ায় তা মেনে নিতে দ্বিধান্বিত। কিন্তু এ কথা তো স্বীকার করতে হবে যে, একই সময়ে বিভিন্ন বোধ ও আঙ্গিকের কবিতা লিখিত হতে পারে, একই সময়ের জাতক হয়েও জীবনানন্দ দাশ, নজরুল ও জসীমউদ্দীনের কবিতার দৃষ্টান্ত আমাদের সামনেই আছে। এ বিষয়ে সুকান্ত ছিলেন সম্পূর্ণ সচেতন ও সাবধানী, তার দৃষ্টান্ত তার লেখায় স্পষ্ট। এখানে, ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতাটি পড়লে তার এ রকম কাব্যভাবনার পরিচয় পাওয়া যাবে :
এখনো আমার মনে তোমার উপস্থিতি,
প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্ততা ছড়ায় যথারীতি;
এখনো তোমার গানে সহসা উদ্বেল হয়ে উঠি,
নির্ভয়ে উপেক্ষা করি জঠরের নিঃশব্দ ভ্রুকুটি।
এখনো প্রাণের স্তরে স্তরে,
তোমার দানের মাটি সোনার ফসল তুলে ধরে।
এখনো স্বগত ভাবাবেগে,
মনের গভীর অন্ধকারে তোমার সৃষ্টিরা থাকে জাগে।
বোঝা যায়, এই কবি রবীন্দ্রপ্রাণিত, জঠরের নিঃশব্দ তাড়না উপেক্ষা করে রবীন্দ্রনাথের গানে উদ্বেল হয়েও উঠতে পারেন, কিন্তু এ কবিতার শেষ স্তবকে আছে এমন বার্তাও :
তবু আজ আমারো বিশ্বাস,
‘শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস।’
তাই আমি চেয়ে দেখি প্রতীজ্ঞা প্রস্তুত ঘরে ঘরে
দানবের সাথে আজ সংগ্রামের তরে ॥
তখন তার নিজের চিন্তা স্পষ্ট হয়ে যায় এবং রবীন্দ্রপ্রীতি থাকা সত্ত্বেও তার সঙ্গে সুকান্তের আদশগর্ত পার্থক্যের বিষয়টিও বুঝতে অসুবিধা হয় না। অল্প বয়স থেকেই তিনি ছিলেন প্রায়-সর্বক্ষণের রাজনৈতিক কর্মী, ‘কিশোরবাহিনী’র প্রধান সংগঠক, সাময়িকপত্রের ছোটদের পাতার সম্পাদক—এসব কর্মতৎপরতার সঙ্গে তার কবিতাচর্চাও ওতপ্রোত জড়িত। সুকান্ত তার মেজ বৌদিকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন : ‘আমি যে জনতার কবি হতে চাই, জনতা বাদ দিলে আমার চলবে কী করে? তা ছাড়া কবির চেয়ে বড় কথা আমি কমিউনিস্ট, কমিউনিস্টদের কাজ কারবার সব জনতা নিয়েই।’ তাই একসময় বুদ্ধদেব বসুর যে মনে হয়েছিল সুকান্ত রাজনৈতিক কবিতা লিখে তার জীবন ক্ষয় করছেন, নন্দনচিন্তার জায়গা থেকে তা তার মনে হতেই পারে, এতে আমাদেরও কিছুটা সায় আছে, কিন্তু এ কথাও সত্য যে, সুকান্তের মতো স্বচ্ছ ভাবনার কবির ক্ষেত্রে এই মত অপ্রাসঙ্গিক, কারণ তার জীবন-অভিপ্রায়ই ছিল ভিন্ন : তিনি মনে করতেন, এসব ক্ষেত্রে ‘সংকোচের বিহ্বলতা নিজের অপমান’। ফলে তার কাব্যযাত্রা সংক্ষিপ্ত হলেও, এ কথা মনে রেখেই এই আত্মপ্রত্যয়ী কবির বিচার করার কথা ভাবা দরকার, আর এও মনে রাখা দরকার যে, বাংলা কবিতায় অপরিণতমনস্ক কবি হিসেবে তার আবির্ভাব ঘটেনি। এ প্রসঙ্গে তার প্রিয় ছন্দ ছয়মাত্রার মাত্রাবৃত্তে লেখা ‘চিরদিনের’ কবিতাটির কথা বিশেষভাবে মনে পড়ছে, যেখানে প্রথমেই আছে এমন বর্ণনা :
এখানে বৃষ্টিমুখর লাজুক গাঁয়ে
এসে থেমে গেছে ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা
সবুজ মাঠেরা পথ দেয় পায়ে পায়ে
পথ নেই, তবু এখানে যে পথ হাঁটা।
বৃষ্টিমুখর লাজুক গাঁ, সবুজ মাঠ, পথ না-থাকা পথে পথিকের পথহাঁটা—এসব দৃশ্য-বর্ণনা যেকোনো কবির কবিতায় থাকতে পারে, কিন্তু এখানে কবি যেখানে সুকান্ত, জনতার কাছে দায়বদ্ধ সুকান্ত, তাই সেখানে একই কবিতায় নিম্নোক্ত স্তবকটিও অনাকাঙ্ক্ষিত নয় :
রাত্রি হলেই দাওয়ায় অন্ধকারে
ঠাকুমা গল্প শোনায় যে নাতনিকে,
কেমন করে সে আকালেতে গতবারে
চলে গেল লোক দিশাহারা দিকে দিকে।
এখানে রূপকথার গল্প নয়, ভূত-পরীর গল্পও নয়, ঠাকুমা তারনা তনিকে শোনাচ্ছেন আকাল আর দিশাহারা লোকের গল্প। সমাজের প্রতি এই দায়বদ্ধতার জায়গাটিকে গুরুত্ব দিয়ে আমৃত্যু কবিতা লিখে জনতার কাছে সেগুলোকে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন সুকান্ত। এসব কবিতা পড়েই বিষ্ণু দের মতো কৃতবিদ্য লেখক বলেছিলেন, সুকান্তর কবিপ্রতিভা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নয়, পরিণতরূপে প্রকাশিত হয়েছিল; তার ভাষায়, ‘ভেবেছি এ ছেলেটি প্রৌঢ়ত্বে আর কী লিখবে? এর বিস্ময়কর প্রতিভার কি বিকাশ সম্ভব?’
কিন্তু প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছে কী লিখতেন সুকান্ত, তা দেখার আর সুযোগ রইল না, তবে অরুণ মিত্র যে চিৎকারের কথা বলেছিলেন, তা, তারও বেশ পরে যে কবির কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল তার নাম দিলওয়ার, তিনি তার মতো করে এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ধারণা করি, সুকান্তের অকালমৃত্যু দিলওয়ারকে আহত করেছিল বলেই সেই কবির প্রিয় ছন্দে তিনিও লিখেছিলেন এমন স্তবক :
রইল তোমার যক্ষের মেঘমন্দ্র
রইল :
অভিসার-রাতে আকাশের আকাশের পূর্ণচন্দ্র
ঘোমটায় শত অস্থিরতার রন্ধ্র,
রইল :
পুষ্পাবরণে রাধিকারমণ সংগীত
তার আগে চাই হিঙ্গুল সম্বিৎ।
এই কবিতাটি সুকান্তকে সরাসরি স্মরণ করে লিখিত, শিরোনামের নিচে উৎসর্গেও তা উল্লেখ আছে, কিন্তু এ ছাড়াও আরও বহু কবিতা লিখেছেন দিলওয়ার, যেগুলো সুকান্তের ধারারই প্রাণবন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
তবু এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমাদের বাংলা কবিতা শেষ পর্যন্ত এই পথে এগোয়নি, আমাদের যুগযন্ত্রণার বহুমাত্রিক চাপ আর প্রভাবই হয়তো এর জন্য দায়ী। কিন্তু আমাদের বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা এখন যেরূপে অস্থির ও উত্তাল হয়ে আছে, তাতে, ভবিষ্যতে এই ধারাটিই যে আবার প্রবল হয়ে উঠবে না, তা কে বলবে? দুনিয়ার নানা ঘটনার অভিঘাতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বয়সের যে সব কবিকে এখন গর্জে উঠতে দেখা যায়, তাকে, অরুণ মিত্র-কথিত সুকান্তের সেই নিঃশব্দ শেষ ডাকের বিলম্বিত চিৎকার বলেই চিহ্নিত করা সম্ভব।
জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধা
সুকান্তের নিঃশব্দ শেষ ডাক
মোস্তাক আহমাদ দীন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
অলংকরণ : কাজী যুবাইর মাহমুদ
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০