‘উত্তরাধিকার’ প্রজেক্ট স্থগিত

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ এএম

ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইয়ুব বাচ্চুর কালজয়ী গানগুলোর স্রষ্টারাও। বাপ্পী খান, লতিফুল ইসলাম শিবলী, যায়েদ আমীন, এনজেল শফিক, নিয়াজ আহমেদ অংশু এবং প্রয়াত কাওসার আহমেদ চৌধুরীর পক্ষে শাফি চৌধুরী-প্রতীক এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন

ভক্তদের ক্ষোভ আর আইয়ুব বাচ্চুর কালজয়ী গানগুলোর গীতিকারদের তীব্র আপত্তির মুখে অবশেষে স্থগিত করা হলো ২০ গানের বিশেষ প্রজেক্ট ‘উত্তরাধিকার’। একই সঙ্গে ইতিমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসা ৭টি গানের মধ্যে বাপ্পা মজুমদার, সোনার বাংলা সার্কাস ও পলাশের গাওয়া গান ৩টি রেখে বাকি ৪টি প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া প্রক্রিয়াধীন থাকা বাকি ১৩টি গানও প্রকাশ করছে না তারা।

গত ১৬ আগস্ট ব্যান্ড লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে উদযাপিত হয়েছিল এই বিশেষ উদ্যোগটি। কিন্তু মুক্তির পর থেকেই গানগুলোর নতুন রূপায়ণ, গায়কি ও সংগীতায়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে আইয়ুব বাচ্চুর মূল সুর ও ভাবাবেগকে বিকৃত করার।

প্রকল্পটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইয়ুব বাচ্চুর কালজয়ী গানগুলোর স্রষ্টারাও। বাপ্পী খান, লতিফুল ইসলাম শিবলী, যায়েদ আমীন, এনজেল শফিক, নিয়াজ আহমেদ অংশু এবং প্রয়াত কাওসার আহমেদ চৌধুরীর পক্ষে শাফি চৌধুরী-প্রতীক এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তাদের দাবি, অর্ধেক মেধাসত্ত্বের মালিক গীতিকাররা হলেও ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্পে ব্যবহৃত গানের জন্য কোনো অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া হয়নি কিংবা তাদের অবহিত করা হয়নি। গানগুলোর এমন মানহীন পুনঃউৎপাদনের কোনো দায়ভার তারা নেবেন না এবং এটি স্বত্ব লঙ্ঘনের শামিল বলেও উল্লেখ করেন তারা। একই সঙ্গে তারা স্মরণ করিয়ে দেন, শ্রদ্ধা বা আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া মানে অধিকার ছেড়ে দেওয়া নয়; ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক কভার কিংবা অভিযোজনের ক্ষেত্রে প্রতিটি গানের শর্তাবলি ও অধিকার রক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। এর বাইরে ‘আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম’ নামে ফান্ড সংগ্রহের উদ্যোগে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে তাতে সমর্থন না দেওয়ার কথাও জানান এই গীতিকাররা।

কণ্ঠশিল্পী রাজিব ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমধ্যমে বলেন, আইয়ুব বাচ্চুর আসল সুর ও কম্পোজিশন খাঁটি রসমালাইয়ের মতো, যা নতুন কোনো ধাঁচে শোনানো সহজ নয়। ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্পে ‘ঘুমন্ত শহরে’ গানটির নতুন রূপায়ণ কিংবদন্তি বাচ্চু ভাইয়ের স্টাইল ও আভিজাত্য থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে মন্তব্য করে তিনি গান কাভার করার আগে তাকে নিয়ে গভীর গবেষণার ওপর জোর দেন। শুধু রাজিবই নয়, আইয়ুব বাচ্চুর অনেক ভক্ত এই প্রকল্পের গান নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রবিবার (৩১ আগস্ট) সংশ্লিষ্টদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘রূপালি গিটার’ (বাপ্পা মজুমদার), ‘গতকাল রাতে’ (সোনার বাংলা সার্কাস) এবং ‘আপন কেহ নাই’ (পলাশ), এই ৩টি গান ছাড়া ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’ (কানিজ সুবর্ণা), ‘কষ্ট কাকে বলে’ (জয় শাহরিয়ার), ‘হকার’ (অটামনাল মুন) ও ‘ঘুমন্ত শহরে’ (অদিত) গান ৪টি ইউটিউব ও স্পটিফাইসহ সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে এলআরবি সদস্য ও আইয়ুব বাচ্চুর দীর্ঘদিনের সহযাত্রী শামীম আহমেদ বলেন, ‘বস সবার কাছেই এক পরম আবেগের নাম। তার কালজয়ী সৃষ্টির এভাবে অবমূল্যায়ন মেনে নেওয়া যায় না। খুব শিগগিরই বসের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হবে। প্যানেল যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলেই কেবল স্থগিত গানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত