২২ লাখ টাকার ভবন ৩ বছরেই ভেঙে বিক্রি!

তিন বছর আগে ২২ লাখ টাকা খরচে নির্মিত নতুন ভবন অনুমোদনহীনভাবে ভেঙে বিক্রির নজিরবিহীন ঘটনায় তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন; প্রধান শিক্ষককে নোটিশের পর গঠিত হলো ৫ সদস্যের কমিটি।

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধানুড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত একটি ভবন নিয়মবহির্ভূতভাবে ভেঙে বিক্রির অভিযোগে এবার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়। সেই নির্দেশের পর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

কমিটিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার, উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া, বিএডিসির প্রকৌশলী সাইদুর রহমান এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান।

প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) এবং জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে একতলা দুই কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করে। ২০২৩ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর উদ্বোধন করা হয়েছিল।

তবে নির্মাণের মাত্র ৩ বছরের মাথায় কোনো প্রকার উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি এবং সংলগ্ন পুরোনো টিনশেড ও আধাপাকা স্থাপনা ভেঙে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা; কোথাও তা ১ লাখ টাকা আবার কোথাও ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নজর কাড়লে গত ৩০ আগস্ট প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার জানান, প্রধান শিক্ষকের দেওয়া লিখিত জবাবের নথি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই জায়গায় প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর নতুন একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের দাবি, নতুন ভবনের জায়গার সংকট থাকায় এবং পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমেই আগের ভবনটি ভাঙা হয়েছে। তবে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ জানান, ভবন ভাঙা বা বিক্রির বিষয়ে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি এবং হিসাবও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান কে এম রাফিউল ইসলাম জানান, ইউএনওর নির্দেশনায় তাঁরা কাজ শুরু করেছেন এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থার সুপারিশ করা হবে। ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ পরিষ্কার জানিয়েছেন, ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি; তদন্তে নিয়মের ব্যত্যয় মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে ৩ বছর আগে নির্মিত ভবনটি কেন ভাঙতে হলো, কী প্রক্রিয়ায় তা বিক্রি করা হলো এবং বিক্রির টাকা কোথায় গেল—এসব প্রশ্নের উত্তর ও প্রক্রিয়ার নিয়মসিদ্ধতা খুঁজতেই কাজ করছে তদন্ত কমিটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত