তৃতীয় রাউন্ডে উঠে কটূক্তির কড়া জবাব সাবালেঙ্কার

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

কোর্টে অপ্রতিরোধ্য পারফরম্যান্সের সুবাদে ইউএস ওপেনের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলেছেন আরিনা সাবালেঙ্কা। তবে ফ্লাশিং মেজোয় দ্বিতীয় রাউন্ডে পলিনা ইাতচেঙ্কোকে উড়িয়ে দিয়ে জয়ের হাসি হাসার পর সংবাদ সম্মেলনের রুমটি হঠাৎ করেই এক উত্তপ্ত তপ্ত কড়াইয়ে রূপ নেয়। 

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর অভিজ্ঞ সাংবাদিক ম্যাথিউ ফুটারম্যান টুর্নামেন্টের ঠিক আগে ব্র্যান্ডের স্পন্সরশিপ এবং বিভিন্ন আয়োজনে সাবালেঙ্কার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। ফুটারম্যান যখন টুর্নামেন্ট শুরুর আগের সময়টাকে ‘পার্টি ও ফান’ বা আনন্দ-ফুর্তির আবহ বলে অভিহিত করেন, তখনই তা মেনে নিতে পারেননি বিশ্বসেরা তারকা।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় তিনি বলেন, ‘সবাই যেন এক একটা কৌতুক করছে! পার্টি? ফান? এ ধরনের কথা আপনার মুখে এল কী করে? এমন উদ্ভট ভাবনা এলই বা কেন?’ ফুটারম্যান নিজের বক্তব্য পরিষ্কার করার চেষ্টা করে জানান যে তিনি মূলত বাণিজ্যিক ব্যস্ততার কথা বোঝাতে চেয়েছেন, কিন্তু সাবালেঙ্কা সাফ জানিয়ে দেন সাংবাদিক সরাসরি তার পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সেই সাংবাদিক যখন তার মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন নিয়ে পরবর্তী প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, তখন ব্যঙ্গাত্মক সুরে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘ওহ হ্যাঁ, এর আগে তো আমি একেবারেই সিরিয়াস ছিলাম না! নেক্সট কোশ্চেন।’ এরপর সরাসরি ওই সাংবাদিককে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জুড়ে দেন, ‘কিছু বলার আগে একটু ভেবেচিন্তে কথা বলবেন।’ 

তবে এই বিতর্কের পাশাপাশি এবারের ইউএস ওপেনে তার সাহসী ও নজরকাড়া নাইকি পোশাক নিয়েও কম জল ঘোলা হয়নি। নোভাক জকোভিচের সঙ্গে মিক্সড ডাবলসে অংশ নেওয়ার সময় তার পরিধান করা পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের একাংশ বেশ সরব হয়েছিল। এমনকি দিন ও রাতের সেশনের জন্য নাইকির তৈরি ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক নিয়েও শুরুতে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।

এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে খোলামেলা মন্তব্য করে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার যে একটা ‘ডে ড্রেস’ বা দিনের বেলার আলাদা পোশাক আছে, সেটাই আমি জানতাম না। আমি ভেবেছিলাম আমার কাছে শুধু কমলা রঙের আস্তরণযুক্ত একটা কালো পোশাক আছে। পরে নাইকিতে যাওয়ার পরই আমি বুঝতে পেরেছি যে আমার কাছে দিন এবং রাতের আলাদা সেশনের জন্য আলাদা পোশাক রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে দিনের বেলারটির জন্য কালো এবং কমলা রঙের কম্বিনেশন রাখা হয়েছে।’ 

টেনিসপ্রেমীদের একাংশের পক্ষ থেকে এই সাহসী পোশাকের কারণে সমালোচনার ঝড় বইলেও তাতে বিন্দুমাত্র কান দিতে নারাজ এই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। সমালোচকদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের পছন্দের পোশাকের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেন, ‘কে কী ভাবল, তাতে কার কী যায় আসে? আমি এটি দারুণ উপভোগ করছি।’  

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত