প্রতি উপজেলায় ১০ জন, সর্বোচ্চ অর্থায়ন ২০ লাখ টাকা

তরুণ উদ্যোক্তাদের ঋণের অর্ধেক অনুদান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ‘উদ্যোগ’ নামে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ কর্মসূচির আওতায় সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পুঁজির ৫০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ এবং বাকি ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী ও সাঈদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ।

আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসায়িক খাতকে এ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, প্রযুক্তিসহ যেকোনো বৈধ ও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক উদ্যোগ এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারবে।

প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের আটটি জেলার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি চালু করা হবে। প্রতি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা বাছাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা যাবে।

বাছাইয়ের পর ব্যাংক উদ্যোক্তার প্রকৃত পুঁজির চাহিদা নির্ধারণ করবে। কেউ ১২ লাখ টাকা পুঁজির প্রয়োজন হলে তিনি ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পাবেন। অর্থাৎ সবাই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন না; প্রকৃত প্রয়োজন ও ব্যাংকের ঋণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়ন নির্ধারিত হবে।

ব্যাংক ঋণের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির নীতিমালা অনুসারে সুদের হার নির্ধারণ করা হবে।

শুধু অর্থায়ন নয়, নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, আর্থিক সাক্ষরতা, মেন্টরিং, বিপণন ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হবে। ব্যবসা নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেও সহায়তা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উদ্যোক্তা নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। বাছাই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্টার্টআপ ও বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জামানতের বিষয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের অধিকাংশেরই পর্যাপ্ত জামানত থাকার সুযোগ নেই। তাই প্রাথমিকভাবে কর্মসূচিটি জামানতবিহীন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ঋণের অর্থ অপব্যবহার বা খেলাপি হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তরুণদের মধ্যে ‘চাকরি করব’ মানসিকতার পাশাপাশি ‘চাকরি দেব’—এমন মানসিকতা তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রাথমিকভাবে ৬৪০ জন উদ্যোক্তা নিয়ে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে কর্মসূচিটি দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, সফল তরুণ উদ্যোক্তারা ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত