খুলনার কয়রা উপজেলায় সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে চার শতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হারুনগাজীর মোড়সংলগ্ন এলাকায় সংস্থাটির ‘স্কেল এলএলএ’ প্রকল্পের ‘যাকাত’ ফান্ডের আওতায় এসব পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়। প্রতিটি ট্যাংকের ধারণ ক্ষমতা দুই হাজার লিটার।
ইসলামিক রিলিফ জানায়, কয়রা সদর ইউনিয়নে ২২৯টি এবং মহারাজপুর ইউনিয়নে ১৭১টি, মোট ৪০০ পরিবারের মধ্যে পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পরিবারের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার এবং শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির সংকট কিছুটা কমানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে পানির ট্যাংক তুলে দেন প্রধান অতিথি কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী।
অনুষ্ঠানে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কযরা উপজেলার প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ গাজীউর রহমান বলেন, কয়রা এলাকায় পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমি এই এলাকায় অনেক বছর ধরে কাজ করেছি। তাই এখানকার মানুষের পানির কষ্ট ও সংকট খুব কাছ থেকে দেখেছি। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে সুপেয় পানি সংগ্রহে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি বলেন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানুষের পানির সংকট কিছুটা দূর করার লক্ষ্যেই আজ পানির ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবারগুলো নিজেদের পানির চাহিদা মেটাতে পারবে। আমরা আশা করি, এই উদ্যোগ উপকূলের মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সংকট মোকাবিলায় কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য জামাল ফারুক জাফরিন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা তৈয়েবুর রহমান প্রমুখ।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের আজিবার রহমান বলেন, একটি পানির ট্যাংক আমার কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। অনেক চেষ্টা করেও এটি কিনতে পারিনি। এখন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারব। এতে পানির কষ্টের পাশাপাশি বাড়তি খরচও কমবে।
মহারাজপুর ইউনিয়নের শ্যামখালী গ্রামের আমেনা খাতুন বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রতিনিয়ত খাবার পানি সংগ্রহ করতে যেতে হতো। ট্যাংক পাওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হলো। বৃষ্টির সময় পানি ধরে রেখে পরবর্তী সময় ব্যবহার করতে পারব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, উপকূলীয় কয়রায় সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা গেলে নিরাপদ পানির চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে পানির ট্যাংক বিতরণ সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি উপকারভোগীদের ট্যাংকগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণের আহ্বান জানান।