হাটহাজারীতে প্রাচীন মসজিদ ঘেঁষে নতুন মসজিদ তৈরি নিয়ে উত্তেজনা 

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মির্জাপুর দরবার শরীফে প্রখ্যাত আলেমদের ফতোয়া উপেক্ষা করে দেড়শ বছরের পুরনো মসজিদের পাশে (১০০ গজ দুরত্বে) নতুন আরও একটি মসজিদ গড়ে তোলায়  কিছুদিন ধরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদসহ আরও কয়েকজন আলেমদের ফতোয়া অগ্রাহ্য করে পুরনো মির্জাপুর ছৈয়দ পাড়া শাহী জামে মসজিদের পাশে ‘মুফতি সৈয়দ মছিউল্লাহ মির্জাপুরী (র.) বড় মৌলানা জামে মসজিদ’ নামে নতুন মসজিদ গড়ে তোলায় সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন মসজিদের নামে কবরস্থানের ও এজমালী জায়গাও দখল করে নেওয়া হয়েছে। 

এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলাভঙ্গের আশঙ্কা করে পুরনো মসজিদ কমিটির পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে তারা অভিযোগ করেন, পেশায় কাজী হলেও যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেন আবু ছাঈদ। এলাকায় বিভিন্ন সময় মব সৃষ্টি করে মান্যগণ্য ব্যক্তিদের হেনস্থা করেছেন। পুরনো মসজিদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পেরে নতুন মসজিদ গড়ে তুলে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছেন ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদ তার সহযোগীরা। এদিকে দেড়শ বছরের পুরনো মসজিদের পাশে নতুন করে আরেকটি মসজিদ স্থাপনের বিষয়ে প্রখ্যাত দুজন আলেম সতর্ক করে দিলেও তা মানেননি ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদ। এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ওসি জাহিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনাটা শুনেছি। তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ অছিয়র রহমান এবং একই মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতি কাজী মুহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ যৌথ স্বাক্ষরে এ সংক্রান্তে একটি ফতোয়া জারি করেন। এতে তারা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘এলাকার মুসল্লীদের মধ্যে ফাটল ও ফিতনা সৃষ্টির জন্য মসজিদের সন্নিকটে কেউ নতুন মসজিদ করলে শক্ত গুনাহ হবে।’ এছাড়া সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় নতুন মসজিদ স্থাপনের মতো গর্হিত না করতে ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদকে অনুরোধও করেছেন মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ অছিয়র রহমান।

ফতোয়া জারির অন্তত ছয়মাস পর একই মাদ্রাসার প্রধান মুফতি কাজী মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ ও শাইকুল হাদীস আল্লামা মুহাম্মদ সোলাইমান আনসারির কাছে পৃথক একটি আবেদন করেন  ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদ। ওই আবেদনে নতুন মসজিদে নামাজ পড়া ও দান করা জায়েজ হবে কিনা জানতে চাওয়া হয়। আবেদন পত্রটির এক পর্যায়ে নতুন মসজিদটি পুরাতন মসজিদ থেকে ৫০০/৬০০ গজ দূরত্বে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সুত্রের দাবি,  বাস্তবে পুরাতন মসজিদ থেকে নতুন মসজিদের দূরত্ব ১০০ গজ। এত কম দূরত্বের মধ্যে নতুন মসজিদ গড়ে তোলায় এলাকার মুসল্লিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো সময় সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।   

অভিযাগ আছে, সংশ্লিষ্ট মালিকের অনুমতি না নিয়েই এজমালী জায়গা দখল করে উক্ত নতুন মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে। নতুন মসজিদ গড়ে তোলার নামে দখল করে রাখা হয়েছে কবরস্থানের জায়গাও। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর মির্জাপুর সৈয়দ পাড়া শাহী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষে সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহিনুল হক সাহেদ অভিযুক্ত ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাইকে গুজব ছড়িয়ে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ এনে হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (১৮৩২) করেন।

এতে তিনি অভিযোগ করেন, ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদ এলাকার দেড়শ বছরের পুরনো মসজিদে নামাজ পড়লে আদায় হবে না মর্মে গুজব ছড়িয়ে অশান্তি সৃুষ্টির পাঁয়তারা করছেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ধর্মপ্রাণ সহজ সরল মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, মসজিদের নামে এজমালী জায়গা দখল, উস্কানিমূলক বক্তব্যসহ নানা চক্রান্ত করে যাচ্ছেন। এর আগেও ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদ চক্রের বিরুদ্ধে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগে হাটহাজারী থানা ও আদালতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী। আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আবু ছাঈদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ মুখ খোলারও সাহস পান না।

 অভিযুক্ত ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদের দাবি, মাসখানেক আগে রমজুল ইসলাম বাবুল নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে জায়গা পাবেন বলে দাবি করে নতুন মসজিদের মিম্বর ভেঙে ফেলা হয়। পুরনো মসজিদটি ওয়াকফ করে দিতে কমিটির লোকজন গড়িমসি করায় নতুন মসজিদ গড়ে তোলার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। নতুন মসজিদ গড়ে তোলার পর পুরনো মসজিদ কমিটি টাকা দিয়ে ফতোয়া আদায় করেছেন। নতুন মসজিদের নামে কবরস্থানের ও এজমালী জায়গা দখলের অভিযোগ সত্য নয়। মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ অছিয়র রহমান এক ভিডিও বার্তায় নতুন মসজিদ স্থাপন না করার বিষয়ে সতর্ক করা সত্তে¡ও ১০০ গজ দুরত্বের মধ্যে নতুন মসজিদ গড়ে তোলার কারণে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আপনি দায়ী কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে ছৈয়দ মুহাম্মদ আবু ছাঈদ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে একদিকে কম দূরত্ব। অন্যদিকে প্রধান রোড হয়ে নতুন মসজিদে আসলে দেড় হাজার ফুট হবে।’    

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত