সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি মারা গেলেন বৃদ্ধা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ এএম

বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয়ে আনুমানিক ৮০ বছর বয়স্ক ফিরোজা বেগম মারা গেছেন। ওই পথচারী বৃদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ধানের ক্ষেতে গিয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী নাজমা আরা বেগম আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, নিহত ফিরোজা বেগম শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জননী। তার বড় ছেলে কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। ছোট ছেলে সেলিম সরকার কৃষিকাজ করেন। পাঁচ মেয়েরই বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় ছেলে ফেরদৌসের স্ত্রী রিপা বেগম ও ছোট ছেলে সেলিমের স্ত্রী রেশমা বেগমের সঙ্গে থাকতেন ফিরোজা।

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান জানান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী ঢাকা থেকে সড়কপথে জয়পুরহাট যাচ্ছিলেন। কিচক গোবিন্দপুর এলাকায় পথচারী ফিরোজা বেগম দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ধানের জমিতে গিয়ে পড়ে। এ সময় ওই নারী গাড়ির ধাক্কায় আহত হন। আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন দুপুর ১২টার সময় মারা যান।

নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান। নিহত ফিরোজার লাশ পরিবারের কাছে দুপুরের পরপরই হস্তান্তর করা হয়।

নিহত বৃদ্ধার ভাতিজা মো. জাকির জানান, তার চাচি সকালে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে তার মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি চাচিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি।

ফিরোজার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বড় ছেলের স্ত্রী রিপা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিপা জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর শাশুড়িই ছিলেন তার বড় আশ্রয়। শাশুড়ি তার কাছে বটবৃক্ষের ছায়া হিসেবে ছিলেন। এখন কীভাবে জীবন কাটাবেন তিনি?

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা টিএমএসএস হাসপাতালে গিয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। দাফন বাবদ তাদের জন্য সরকারিভাবে কিছু সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া সার্বিক বিষয়ে খোঁজ রাখা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা গানম্যান মুক্তারুল জানান, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী পায়ে আঘাত পেয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই অন্য একটি গাড়িতে করে তাকে চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী ও তার স্ত্রী নাজমা আরা বেগমকে নেওয়া হয় জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর প্রতিমন্ত্রী অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া।

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সরদার রাশেদ মোবারক জানান, প্রতিমন্ত্রীর কোনো হাড় ভাঙেনি। তার ডান পায়ে সফট টিস্যু ইনজুরি হয়েছে। এ ছাড়া হাত, কাঁধ ও ঘাড়ে সাময়িক আঘাত পেয়েছেন। পায়ে ‘শর্ট লেগ’ প্লাস্টারসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত