নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মৃত্যুবার্ষিকী পালন

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

নড়াইল জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্টের আয়োজনে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী জন্মস্থান নড়াইলে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালন করা হচ্ছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র কোরআন খানি, স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বৃক্ষরোপন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় নূর মোহাম্মদ নগরে পবিত্র কোরআন খানির মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টায় নূর মোহাম্মদ নগর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে স্থানীয় সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।

এরপর নড়াইল জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ মহাবিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে পুলিশের একটি চৌকষ বাহিনী রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এসময় দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

পরে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি যাদুঘর ও পাঠাগার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো.আহসান মাহমুদ রাসেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই আলম সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির, বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ শেখের ছেলে শেখ মো. মোস্তফা কামাল, নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সরদার প্রমুখ।

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে শাহাদাতবরণ করেন। তিনি ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমান গ্রামটির নাম ‘নূর মোহাম্মদ নগর’। তার বাবা নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মায়ের নাম জেন্নাতুন্নেছা। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৫৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগদান করেন। ১৯৭১ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। তার এই অসামন্য বীরত্বের জন্য তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত