ডেঙ্গু জ্বরের যত জটিলতা

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ এএম

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ

মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এইচওডি, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, সিএমএইচ, ঢাকা।

ডেঙ্গুর আক্রমণ ও মৃত্যু থেমে নেই। ভাইরাসজনিত এই রোগটি হঠাৎ করেই বিপর্যয় ঘটাতে পারে। সাধারণত ডেঙ্গু জ¦রের ৩ থেকে ৭ দিন সময়ে নেমে আসতে পারে ভয়ানক জটিলতা। এ সময় জ¦রের তীব্রতা কমে যায়, কারও কারও শুরু হয়ে যায় জটিলতা।

ডেঙ্গুজনিত শক

এই পর্যায়ে রক্তনালি থেকে রক্তরস বের হয়ে আসে। ফলে পেটে, ফুসফুসে পানি জমতে শুরু করে। রক্তের পরিমাণ কমে যায়। ঘনত্ব বাড়তে থাকে রক্তের। বেড়ে যায় হেমাটোক্রিট। রক্তের মাঝে প্রোটিন কমে যাওয়াতে রক্তচাপ কমে যায়। যথাসময়ে চিকিৎসা না হলে রোগী শকে চলে যায়। এটা হলো ডেঙ্গুজনিত শক। এতে মৃত্যু এসে কড়া নাড়ে দরজায়।

রক্তক্ষরণ

ডেঙ্গু ভাইরাসের আক্রমণে রক্তের অনুচক্রিকা কমতে থাকে। অনেক সময় খুব দ্রুত কমে যায় এই রক্তকণিকা। ডেঙ্গু জ্বর কিংবা অন্য কোনো কারণে অনুচক্রিকা কমে যাওয়ার কারণে রক্তক্ষরণের প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। ভাইরাসের আক্রমণে রক্তনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে শুরু হতে পারে রক্তক্ষরণ। দাঁতের গোড়া, নাক থেকে হতে পারে মৃদু মাত্রার রক্তক্ষরণ। বমি কিংবা পায়খানার সঙ্গে হতে পারে রক্তপাত। মহিলাদের ঋতুস্রাবের রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। এমনকি প্রস্রাবের পথেও আসতে পারে রক্ত। মস্তিষ্কেও শুরু হতে পারে রক্তপাত।

বহু অঙ্গ বিকল

এ সময় লিভার আক্রান্ত হতে পারে। ডেঙ্গু থেকে হতে পারে হেপাটাইটিস বা যকৃতের প্রদাহ। এ থেকে হঠাৎ করে যকৃত বিকল হয়ে যেতে পারে। ডেঙ্গু জ¦রের কারণে প্রায়ই পিত্তথলি আক্রান্ত হয়। পিত্তথলিতে পাথর না থাকলেও প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। প্লীহা ফেটে যেতে পারে। এই ভাইরাসে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়। ফলে রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। শুরু হতে পারে খিঁচুনি। হৃদস্পন্দন হতে পারে এলোমেলো। হৃদপি-ের পেশি কোষ আক্রান্ত হয়ে হতে পারে কার্ডিওমায়োপ্যাথি। কিডনি, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয় সব অঙ্গ হতে পারে বিকল।

করণীয়

এই মৌসুমে জ্বর হলেই শুরুতেই জেনে নিতে হবে ডেঙ্গু কি না। রোগীকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। জ¦র কমানোর ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় ও খাবার খাওয়াতে হবে। বিপদসংকেত দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। প্রতিদিন রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নিতে হবে প্লাটিলেট এবং রক্তের হিমাটোক্রিটের গতি-প্রকৃতি। আর সর্বোপরি প্রতিরোধ করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত