নিজের ২৯তম জন্মদিনের ঠিক পরের দিন মাঝমাঠের অসাধারণ নৈপুণ্যে নিউ ইয়র্ক কসমসকে বড় জয় এনে দিলেন শমিত সোম। ইউএসএল লিগ ওয়ানে ফোর্ট ওয়েন এফসির বিপক্ষে দলের ৪-২ গোলের জয়ে জোড়া অ্যাসিস্ট করে পুরো ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এই বাংলাদেশি মিডফিল্ডার।
শমিতের নিখুঁত পাসিং ভিশন ও আক্রমণ শাণানোর দক্ষতার সুবাদেই বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কসমস। ফোর্ট ওয়েনের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন শমিতরা। প্রথমার্ধের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে ৪৪ মিনিটে বাংলাদেশি এই মিডফিল্ডারের নিখুঁত বাড়ানো বল ধরেই লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড জাওনেহ লামিন।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্তটি আসে বিরতির ঠিক পরপরই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ফাঁক গলে এক চোখ জুড়ানো থ্রু বল বাড়ান শমিত। সেই নিখুঁত পাস লুফে নিয়ে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল তুলে নেন লামিন, যা কসমসকে ৩-০ গোলের নিরাপদ ব্যবধানে পৌঁছে দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরা ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছিল, তবে লামিনের হ্যাটট্রিক এবং শমিতের নিয়ন্ত্রিত মিডফিল্ড পারফরম্যান্সে ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে নিউ ইয়র্ক।
পুরো ম্যাচে কেবল আক্রমণ শানানোই নয়, পরিসংখ্যানের বিচারেও পুরো মাঠে দ্যুতি ছড়িয়েছেন এই বাংলাদেশি মিডফিল্ডার। ম্যাচে মোট ৪৫ বার বলের স্পর্শ নেওয়ার পাশাপাশি ৩৬টি পাসের মধ্যে ৩০টি নিখুঁতভাবে বাড়িয়েছেন, যার পাসিং অ্যাকুরেসি ছিল ৮৩ শতাংশ। এছাড়া ৫টি লং বলের মধ্যে ৪টিতেই সফল ছিলেন তিনি। সতীর্থদের জন্য দুটি গোল বানিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তৈরি করেছিলেন আরও একটি বড় গোলের সুযোগ।
আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণেও ছিলেন সমানতালে লড়াকু; ম্যাচে ৩টি ট্যাকল, ২টি ক্লিয়ারেন্স, ২টি বল রিকভারি এবং ১টি শট ব্লক করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করেছেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির নিয়ে তিন ম্যাচ খেললেন শমিত, আর তিন ম্যাচেই ছিলেন শুরুর একাদশে।
মাঠের এমন দুর্দান্ত ও প্রভাবশালী পারফরম্যান্স কেবল ক্লাবের ডাগআউটকেই স্বস্তি দেয়নি, বরং আসন্ন এশিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্কোয়াডেও তার ফর্ম ফেরার বড় বার্তা দিয়ে রাখল।
মেসিদের জিততে দিলেন না আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়া এমবোলো