ডেঙ্গুরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নদী দূষণমুক্ত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে জনসাধারণকে রক্ষায় সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে সারা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দেন।

বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী পর্যাপ্ত মজুদ রাখা এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়।

হাসান শিপলু বলেন, সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশনা ‘মাঠে এর প্রতিফলন থাকা চাই।’

এদিকে, সকালে রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্য নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়ন নিয়ে পৃথক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং সংলগ্ন খাল-ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণ ও বৃত্তাকার নৌপথ উন্নয়নের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। গৃহীত পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও সবাইকে কাজ করতে হবে। নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

ডেঙ্গু বিষয়ক সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নদী বিষয়ক সভায় পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত