‘ভৌতিক’ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সিফাতের দাবি সত্য নয়

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

লোডশেডিং ও ‘ভৌতিক’ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে সরকারপ্রধানকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করে গ্রেপ্তার সিফাত আব্দুল্লাহকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সিফাত দুই মাসে ১০ হাজার টাকা বিল পরিশোধের যে দাবি করেছেন তা সত্য নয়, তিনি মূলত তিনটি মিটারের দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল দিয়েছেন সাড়ে ১০ হাজার টাকা, যা তিনি একটি মিটারের বলে দাবি করেছিলেন। সিফাতের বিদ্যুৎ বিলের গ্রাহক কপি ও পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে পাওয়া বিল পর্যালোচনা করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

কারাগারে থাকা সিফাতের বাসার গ্রাহক কপির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে পাওয়া বিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুটো বিলের মধ্যেই মিল রয়েছে। সিফাত ভিডিওতে দুই মাসে ১০ হাজার টাকার বিল দেওয়ার কথা বলেছেন। প্রকৃত অর্থে তিনি দুই মাসে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা বিল দিয়েছেন। তবে সেটা তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটারের বিল। অর্থাৎ জুলাই ও আগস্ট মাসে ঝ০০০৪৩৩*৭, ঝ০০০২১৮*৫, ঝ০০০৪২৪*৭ এই তিনটি মিটারে মোট ১০ হাজার ৬৮১ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীর স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত সিফাতের পিতার নাম মো. সেকান্দার আলী। গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের দোতলা বাড়িতে মোট ৩টি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ রয়েছে। একটি মিটারে (নম্বর ঝ০০০৪৩৩*৭) জুলাই মাসে ১৫০ ইউনিটের বিল আসে এক হাজার ১৮২ টাকা ও আগস্টে ৭৫ ইউনিটের বিল আসে ৫১৩ টাকা। সব মিলিয়ে ওই মিটারে দুই মাসে ২২৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল এসেছে এক হাজার ৬৯৫ টাকা।

অন্যদিকে আরেকটি মিটারে (নম্বর ঝ০০০২১৮*৫) জুলাইয়ে ৪শ ইউনিটের বিল আসে তিন হাজার ৫৯৪ টাকা ও আগস্টে ২৮৫ ইউনিটের বিল এসেছে দুই হাজার ৩৯৭ টাকা। এই মিটারে দুই মাসে মোট ৬৮৫ ইউনিটের বিল এসেছে ৫ হাজার ৯৯১ টাকা।

তৃতীয় মিটারে (নম্বর ঝ০০০৪২৪*৭) জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটের বিল আসে এক হাজার ৬৩৩ টাকা ও আগস্টে ১৭৫ ইউনিটের বিল আসে এক হাজার ৩৬২ টাকা। দুই মাসে এই মিটারে ৩৮০ ইউনিটের মোট বিল এসেছে দুই হাজার ৯৯৫ টাকা। জুলাই ও আগস্ট মাসে সিফাতের গ্রাহক কপির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের পাওয়া বিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুটো বিলের মধ্যেই মিল রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের হিসাবেও জুলাই ও আগস্ট মাসে বিল এসেছে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা। পল্লী বিদ্যুতের বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম আহসান কবীর বলেন, আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিলটি তদন্ত করেছি। তার বাসায় বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা বেশি বিল করা হয়নি। সিফাত একটি মিটারের দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল ১০ হাজার বলে যে দাবি করেছেন তা সত্য নয়, সেটি মূলত তিনটি মিটারের দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত