রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যা

হাইকোর্টে দুজনের প্রাণদন্ড বহাল সর্বোচ্চ সাজা থেকে খালাস ৫

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

প্রায় ১১ বছর আগে রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে দুজনের প্রাণদন্ড বহাল রেখেছে উচ্চ আদালত। একই মামলায় মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত পাঁচজনকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়।

সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকা দুই আসামি হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মো. মাসুদ রানা ওরফে মামুন এবং সদস্য মো. লিটন মিয়া ওরফে রফিক। খালাস পাওয়া পাঁচজন হলেন একই সংগঠনের সদস্য ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। আরও ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন ও মো. আতিকুল ইসলাম সেলিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আল আমীন সিদ্দিকী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফৌজদারি অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এই মামলায় হাইকোর্ট দেখেছে যে, বিচারিক আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্টভাবে সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা মেলেনি। যে জন্য হাইকোর্ট চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ করে দুজনের সাজা বহাল ও পাঁচজনকে খালাস দিয়েছে।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজার শরিফের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে রহমত আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৬ সালের ৩ জুলাই জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানাসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট রংপুরের বিচারিক আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। পরের বছর ১৮ মার্চ বিচারিক আদালত তার রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদ- এবং ছয়জনকে খালাস দেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত