ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ পর্দা উঠছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুমের। এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে এথেন্স ও লাস্ক এবং ক্লাব ব্রুগা ও অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে জমজমাট লড়াই।
এদিকে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আবারও মাঠে নামছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি, যাদের সঙ্গে লড়তে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের মতো পরাশক্তিগুলো। মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়ানোর পাশাপাশি এবারের আসরটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে বেশ কিছু যুগান্তকারী নিয়ম ও শৃঙ্খলার কড়াকড়ির কারণে।
এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের দীর্ঘ লড়াই চলবে ২০২৭ সালের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর নকআউট ও প্লে অফের ধাপ পেরিয়ে ইউরোপ সেরার এই মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্দা নামবে আগামী বছরের ৫ জুন। স্পেনের ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের ঘরের মাঠ মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহু কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটি।
সময় অপচয় রোধে কঠোর নিয়মাবলী
খেলায় সময় নষ্ট করার প্রবণতা কমাতে এবং গতি বজায় রাখতে এবার বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে উয়েফা।
বদলি খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট সময়সীমা: এখন থেকে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় খেলোয়াড়রা পাবেন মাত্র ১০ সেকেন্ড। নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে মাঠ না ছাড়লে নতুন খেলোয়াড়কে নামার জন্য ১ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে এবং খেলা পুনরায় চালুর পর প্রথম বল থামার সুযোগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
চিকিৎসার সময় মাঠের বাইরে অবস্থান: মাঠে কোনো খেলোয়াড় চোটে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য ১ মিনিট মাঠের বাইরে কাটাতে হবে, তবে গোলকিপারদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
থ্রো-ইন ও গোল কিক নিয়ে কড়াকড়ি: থ্রো-ইন বা গোল কিকের ক্ষেত্রে রেফারিদের হাতে থাকবে ৫ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন। থ্রো-ইন নিতে অতিরিক্ত দেরি হলে বল চলে যাবে প্রতিপক্ষের কাছে, আর গোলকিপার নির্দিষ্ট সময়ে গোল কিক নিতে ব্যর্থ হলে প্রতিপক্ষ দল সরাসরি একটি কর্নার কিক পেয়ে যাবে।
ভিএআর প্রযুক্তির পরিধি বৃদ্ধি
বিতর্কিত ও ভুল সিদ্ধান্তগুলো শুধরে নিতে এবার ভিএআর ব্যবহারের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ পদ্ধতির সংশোধন: রেফারি যদি কোনো কারণে মাঠে ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখিয়ে ফেলেন, তবে ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই ভুল তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করা যাবে।
ভুলবশত দেওয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বাতিল: কোনো খেলোয়াড়কে যদি ভুলবশত দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়, তবে ভিএআর তা যাচাই করে রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের আহ্বান জানাতে পারবে এবং প্রয়োজনে সেই কার্ড বাতিলও করা যাবে।
আক্রমণকারী দলের ফাউল পর্যবেক্ষণ: গোল বা পেনাল্টি হওয়ার ঠিক মুহূর্তে আক্রমণকারী দল কোনো ফাউল করেছে কি না তা এখন ভিএআর দিয়ে চেক করা হবে।
গোল কিকের সময় হ্যান্ডবল শাস্তি: গোল কিকের সময় বক্সের ভেতর সতীর্থ খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে হাতে বল লাগালে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি দেওয়া হবে।
মুখ ঢেকে কথা বলা ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নতুন নিয়ম
খেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু ঐচ্ছিক এবং শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নতুন নিয়মও যুক্ত করা হয়েছে।
ভুল কর্নার কিক সংশোধন: এখন থেকে পরিষ্কার এবং দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হলে ভুল কর্নার কিককে গোল কিকে রূপান্তর করা যাবে।
খেলোয়াড়দের মুখ ঢাকা নিয়ে কড়াকড়ি: ফুটবলাররা মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখলে ফিফার মতো সরাসরি লাল কার্ড হয়তো দেওয়া হবে না, তবে একে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ হিসেবে বিবেচনা করে রেফারি হলুদ কার্ড দেখাতে পারেন।
মাঠ ছাড়ার প্রতিবাদে কঠোর পদক্ষেপ: কোনো দল প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠ ছেড়ে চলে গেলে ম্যাচ বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞার নিয়মে ছাড়
খেলোয়াড়দের কিছুটা স্বস্তি দিতে এবার হলুদ কার্ডের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার জন্য হলুদ কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি: এখন থেকে ৩টির পরিবর্তে ৪টি হলুদ কার্ড দেখার পর প্রথম ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
কোয়ার্টার ফাইনালের পর কার্ড মুছে ফেলা: কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগের সব হলুদ কার্ড মুছে ফেলা হবে, যাতে সেমিফাইনালের লাল কার্ড ছাড়া কেউ ফাইনালে নিষিদ্ধ না হন।