পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে নিজের মেন্টর ও বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে আকরাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই।
আমেরিকান গণমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকরাম বলেন, "রাজনৈতিকভাবে তাঁর সাথে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আদালতের বিষয় আইনি প্রক্রিয়ায় চলবে। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়টি যখন সামনে আসে, সেখানে কোনো আপস করা চলবে না।"
গত তিন বছর ধরে ইমরানের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই জানিয়ে আকরাম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "তিনি আমার বন্ধু, আমি তাঁকে খুব মিস করি। রাজনীতি আলাদা বিষয়, তবে ব্যক্তি ও বন্ধু ইমরানকে আমি প্রতিদিন মিস করি। খেলা ছাড়ার পরও আমরা নিয়মিত যোগাযোগে ছিলাম, আমি তাঁর কাছে যেতাম। কিন্তু এখন কী হচ্ছে তা জানা সত্যি কঠিন।"
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি ২২ জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়ে ইমরান খানের সুচিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারাও প্রকাশ্যে ইমরানের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
পাকিস্তানেও এই নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন তাঁর একসময়ের সতীর্থরা। জাভেদ মিয়াঁদাদ কান্নাভেজা কণ্ঠে তাঁর মুক্তির আকুল আবেদন জানানোর পর মঈন খান ও রামিজ রাজাও ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি লর্ডস টেস্টের সম্প্রচারকারী চ্যানেল স্কাই স্পোর্টসে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম একটি সাক্ষাৎকার দেন, যেখানে তাঁরা বাবার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কিছুটা আপত্তি জানিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।
ওয়াসিম আকরাম এই সাক্ষাৎকারের পরবর্তী ঘটনাগুলো উল্লেখ করে বলেন, "ওই সাক্ষাৎকারের পর পাকিস্তানে কিছুটা শোরগোল পড়ে যায়। সরকার কতবার তাঁকে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়েছে সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে। কিন্তু সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে কাকে বিশ্বাস করা উচিত তা বোঝা খুব কঠিন। আইন অনুযায়ী তিনি দোষী বা নির্দোষ যাই হোন, কারাগার বা কারাগারের বাইরে যে অবস্থায়ই থাকুন—মানুষ ইমরান খানের স্বাস্থ্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার বলছে তিনি ঠিক আছেন, কিন্তু একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমি খুবই চিন্তিত।"
ব্যালন ডি'অর প্রসঙ্গে ইয়ামাল, 'কারো কাছে হাত পাতবো না'