ইসলাম দয়া ও মমতারর ধর্ম। এ ধর্ম পশুপাখির মতো অবোলা সৃষ্টির প্রতিও পরম দয়া ও মমতা প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ। মানুষের পাশাপাশি তার হৃদয়ে পাখিদের জন্যও ছিল অসীম ভালোবাসা ও মমতা।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাখিদের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। অহেতুক পাখির বাসা ভাঙা, মায়ের কাছ থেকে ছানাদের আলাদা করা বা খামখেয়ালি করে পাখি হত্যা করাকে তিনি তীব্রভাবে অপছন্দ ও নিষেধ করেছেন।
আবদুর রাহমান ইবনে আব্দুল্লাহ (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুল (সা.)-এর সফর সঙ্গী ছিলাম। তিনি তার প্রয়োজনে অন্যত্র গেলেন। আমরা দুটি বাচ্চাসহ একটি পাখি দেখতে পেয়ে বাচ্চা দুটিকে ধরে নিলাম। মা পাখিটি সঙ্গে সঙ্গে আসলো এবং পাখা ঝাঁপটিয়ে বাচ্চার জন্য অস্থিরতা প্রকাশ করতে লাগল। রাসুলুল্লাহ (সা.) ফিরে এসে বললেন, কে এর বাচ্চা নিয়ে এসে একে অস্থিরতায় ফেলেছে? বাচ্চাগুলো এদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দাও। তিনি আমাদের পুড়িয়ে দেওয়া একটা পিঁপড়ার টিবি দেখতে পেয়ে বললেন, কে এগুলো পুড়িয়েছে? আমরা বললাম, আমরা। তিনি বললেন, আগুনের রব ব্যতীত আগুন দিয়ে কিছুকে শাস্তি দেওয়ার কারও অধিকার নেই। (আবু দাউদ)
নবীজি (সা.) আমোদ-প্রমোদের জন্য পাখি হত্যা করা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি অহেতুক একটি চড়–ই বা তার চেয়ে ছোট কোনো পাখি হত্যা করবে, কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাকে সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। (নাসায়ি)
লেখক : শিক্ষক ও ইসলামি গবেষক