আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডার

নেপথ্যে পরকীয়া, মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ এএম

পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া মধ্যপাড়ায় সংঘটিত হয়েছে ‘তিন হত্যাকান্ড’। ঘটনার দিন আলমগীর কবির নিজেই অভিযুক্ত মনিরকে তার বাসায় ডেকে এনেছিলেন। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা নাজমা ও আলমগীরকে হত্যা করা হয়। এ সময় নাজমার পেটে থাকা ৭ মাসের নবজাতকের মৃত্যু হয়। ক্লুলেস এ নৃশংস ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন করে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ঘাতক একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেই সঙ্গে হত্যার আলামত উদ্ধার হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি। বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলন করে জানাবেন বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, নাজমা খাতুনের সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কারখানা ছুটির পর গার্মেন্টসকর্মী নাজমা খাতুন (৩৯) ও তার স্বামী পান-সিগারেট বিক্রেতা আলমগীর কবির (৪৫) বাসায় প্রবেশ করেন। ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকান্ডের আগে কোনো এক সময় আলমগীর কবিরের ডেকে আনা অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি ঘরে ঢুকে তাদের হত্যা করে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছে। ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমার প্রসব হওয়া নবজাতকসহ তিনজনেরই  মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানায়, আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের ঘটনাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়াসংক্রান্ত বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীরই ওই অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিককে মারধর ও সতর্ক করার জন্য ডেকে এনেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে উল্টো তিনজনকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী বলেন, ঘটনার পর আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য ও হত্যাকান্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হবে বলেও জানান তিনি। এ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

হত্যাকান্ডে নিহতরা হলেন দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে নাজমা খাতুন ও তার স্বামী আলমগীর কবির। নাজমা খাতুন একটি স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন, আর আলমগীর পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। নাজমা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয়তলার তালাবন্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেন। পুলিশ তালা ভেঙে গলিত মরদেহগুলো উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করলে একপর্যায়ে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত