সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যাত্রাবাড়ী থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
গত ৩ সেপ্টেম্বর নাঈম হাওলাদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক নাজিম উদ্দিন ফকির। একই দিনে তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। দুটি আবেদনের শুনানির জন্য গতকাল দিন ধার্য করা হয়।
সে অনুযায়ী আসামি আ স ম ফিরোজকে শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়। এরপর শুনানি শেষে বিচারক উভয় মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
নাঈম হত্যা মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের সময় যাত্রাবাড়ী থানার এলাকাধীন উত্তর কুতুবখালী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতাকে প্রতিহত করার জন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থানরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত হামলা করে। আসামিদের এলোপাতাড়ি ছোড়া গুলিতে ভিকটিম নাঈম হাওলাদার বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ নাঈমকে সঙ্গীয় লোকজন দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন ওই দিন ভিকটিম নাঈম হাওলাদার মৃত্যুবরণ করেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সুবর্ণা পান্না ম্যানসন, ১৭৮ উত্তর কুতুবখালী, যুবশক্তি সংসদ রোড চকওয়ালার ছয়তলা ভবনের ছাদে অবস্থান করার সময় মো. তারেক চৌকিদার ও তার রুমমেট শিহাব ছাদে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করান।
জামিন হওয়ার পর শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ।
এজলাস থেকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি মামলায় দুই বছর সাজা খেটে জামিন পেলাম। এরপর আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি চাইলে তো আর হবে না। যে ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য, সেই ক্ষমা চাইবে, যদি প্রয়োজন মনে করেন। একই সঙ্গে বলেন, এই মুহূর্তে (আওয়ামী লীগের) আমি মনে করি না, এই মুহূর্তে ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে।