ঢাকা-রংপুর ‘মানবপ্রাচীর’ গড়বে জামায়াত

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ এএম

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। লংমার্চ কর্মসূচিতে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর জিলা স্কুল পর্যন্ত মানবপ্রাচীর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে দলটি। ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পথসভা করা হবে।

এরই মধ্যে জেলা, মহানগরী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক সভাও করেছে জামায়াতে ইসলামী, যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সবশেষ গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছে দলটি।

নেতারা বলছেন, এবারের লংমার্চের রুট, অর্থাৎ ঢাকা থেকে রংপুর অঞ্চলে জামায়াতের জনসমর্থন তুলনামূলক বেশি। সেই জনসমর্থন কাজে লাগাতে চায় দলটি। যেহেতু আপাতত সরকারকে বেকায়াদ ফেলার অর্থাৎ হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দেবে না। তাই জনগণের উপস্থিতি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করতে চায় জামায়াত। নেতাদের ভাষ্য নিয়মতান্ত্রিকপন্থায় দাবি আদায় করবেন তারা।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, লংমার্চের দিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর জিলা স্কুল পর্যন্ত মানবপ্রাচীর গড়ে তোলা হবে। সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব শাখায় খবর নিয়ে দেখেছি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর জিলা স্কুল পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে। দৃশ্যমান সব জায়গায় আমাদের নেতাকর্মীরা দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান করবেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার, মোড় এমন কোনো জায়গা বাদ থাকবে না, যেখানে লংমার্চের সমর্থনে লোক থাকবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি আগের লংমার্চের চেয়ে বেশি লোক সমাগম হবে। শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় করতেই আমরা মাঠে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলতে থাকবে।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি রোধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর রুটে এ লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

পথসভার ৫ স্পট নির্ধারণ

গত মঙ্গলবার লংমার্চ নিয়ে একটি সভা করে জামায়াতে ইসলামী। সভায় লংমার্চের রুট, পথসভা ও জনসভার স্থান চূড়ান্তভাবে তৃণমূল নেতাদের জানানো হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর পর্যন্ত মানবপ্রাচীর তৈরি করা নিয়ে আলোচনা হয়। লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। তা ছাড়া গাজীপুর বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার চারমাথা, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সবশেষ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে। কর্মসূচি সুন্দরভাবে সফল করার লক্ষ্যে জেলা ও মহানগরীর নেতারাও নানা পরামর্শ দেন।

লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগরীর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র ও শ্রমিক কল্যাণের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুলে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে নেতারা সম্ভাব্য পথসভাস্থল পরিদর্শন করেন। লংমার্চে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে।

১৪ জেলায় প্রস্তুতি

রংপুরের কর্মসূচি ঘিরে শুধু মহানগর ও জেলাপর্যায়েই নয়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের প্রস্তুতি সভায় রংপুর ও দিনাজপুরের পাশাপাশি নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের জেলাপর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। তা ছাড়া গত মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় গাজীপুর, রংপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, পাবনা অঞ্চলের নেতারা অংশ নেন।

দলীয় নেতারা বলছেন, এসব জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের রংপুরের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। ফলে ১৯ সেপ্টেম্বর লংমার্চ কর্মসূচিতে বড় ধরনের জনসমাগম ঘটবে। বিশেষ করে মানবপ্রাচীর তৈরি করতে শাখাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তা ছাড়া কর্মসূচি সার্বিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিসভা, গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিলি ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুতির জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন নেতারা।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিভিন্ন জেলায় প্রস্তুতি সভার পাশাপাশি আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ধিতসভা করেছি। লংমার্চের বিষয়ে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলাকাভিত্তিক পরিবহন মালিক ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা, অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারণার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো ফলোআপ করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা সবার সহযোগিতা চাই।

ধারাবাহিক কর্মসূচি ১১ দলের : দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জোটের ঘোষিত দাবিগুলো নিয়ে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা টু চট্টগ্রাম লংমার্চ করেছে সরকারবিরোধী এ জোট। তাতে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার দাবি করেছেন দলের নেতারা।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পর ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ১৪ নভেম্বর মহাসমাবেশের তারিখ ঘোষণা করলেও তা পরিবর্তনের কথা জানায় জামায়াত। তবে এখনো সেই তারিখ পুনরায় ঘোষণা করেনি দলটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত