গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ এএম

পাঁচ করবর্ষের জন্য এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর দিতে হচ্ছে গ্রামীণ কল্যাণকে। এ সংক্রান্তে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। এ রায়ের ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ গ্রামীণ কল্যাণকে দিতে হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি নিয়ে ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করে। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির পর ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে আদালত। পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইনের বিধি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিলের সুযোগ দিতে বলা হয় রায়ে।

পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল নিষ্পত্তি করে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। আদেশে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে বলে আপিল বিভাগ। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, পুনঃশুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট দুটি রিট আবেদন খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। যদিও ওই বছরের ২৯ আগস্ট রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্ট।

রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে তখন বলা হয়ছিল, রায় দেওয়া দ্বৈত বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক এক সময় এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শুনানি করেছিলেন। তাই রায়টি ত্রুটিপূর্ণ (ডিফেক্টিভ) হবে। পরে প্রধান বিচারপতির কাছে এই মামলার নথি পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল এ রায় হলো। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্ট আজকে শুধু সিদ্ধান্ত দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আমরা তা পর্যালোচনা করে আপিল করব।’ তিনি দাবি করেন, ‘বলা হচ্ছে গ্রামীণ কল্যাণ ট্যাক্স দেয়নি। কিন্তু ট্যাক্স তো ২০০৪ সাল থেকে দেওয়া হয়েছে। শুধু তৎকালীন সরকার (আওয়ামী লীগ সরকারের সময়) ২০১৭ সালে বিষয়টি রি- ওপেন করার পর দাবি করা হয়েছে যে, ৬০০ কোটি টাকার বেশি ট্যাক্স রয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা রিট আবেদনটি করেছিলাম।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুস সামাদ আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে (আপিল সাপেক্ষে) সরকারের পাঁচ অর্থ বছরের রাজস্ব বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। যদি গ্রামীণ কল্যাণ আপিল না করে তাহলে রায় পাওয়ার পর কর বিভাগ ৩০ দিন সময় দিয়ে ডিমান্ড নোটিস (কর আদায়ের নোটিস) ইস্যু করবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত