সরবরাহ কম সয়াবিন তেলের বেড়েছে আটা-ময়দার দাম

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ এএম

দাম বৃদ্ধির পরও বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এখনো মুদি দোকানগুলোয় তেলের সরবরাহ কম। পাঁচটি দোকান ঘুরে বড়জোর দুটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। ছোট ছোট দোকানিরা অবশ্য তেলই পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে, যার প্রভাব এরই মধ্যে টের পাওয়া যাচ্ছে। বেড়েছে বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম।

গতকাল বৃহষ্পতিবার ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সয়াবিন তেলের সরবরাহ নেমেছে তলানিতে। অর্ডার দিয়েও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হয় তেলের জন্য। তারপরও যে পরিমাণ চাহিদা তার তুলনায় সরবাহ দেওয়া হচ্ছে কম। এই অবস্থায় বেশিরভাগ মুদি দোকানির কাছে তেল নেই, কারও কাছে কম পরিমাণে থাকলেও সেটা থাকেল লুকানো। এই অবস্থায় দোকানির পরিচিত ক্রেতা ছাড়া তেল কেনা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে মেরুল বাড্ডার স্বাগতম জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা আরিফুর রহমান জানান, ‘অর্ডার করলেও তেল দেয় না কোম্পানি। দোকানে কোনো সয়াবিন তেল নেই। ক্রেতা এলেও ঘুরে যাচ্ছে।’ 

সম্প্রতি সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। যদিও ব্যবসায়ীরা চেয়েছিলেন ১০ টাকা। সরকার শুধু বোতলজাত তেলের দাম বৃদ্ধিতে সায় দিলেও ব্যবসায়ীরা খোলা সয়াবিন তেলের দামও বাড়িয়ে দেন। তবে দাম বৃদ্ধির পরও বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি সরবরাহকারীরা।

এই অবস্থার মধ্যেই বেড়েছে আটা-ময়দার দাম। গতকালের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, প্রতি কেজি খোলা আটার সর্বনিম্ন দাম যেখানে ৪৫ টাকা ছিল, তা বেড়ে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় উঠেছে। এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খোলা ও প্যাকেটের ময়দার দাম। প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ।

একইভাবে বেড়েছে প্যাকেটের ময়দার দাম। প্রতি কেজি প্যাকেটের ময়দা কিনতে হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ, প্রতি কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুতের বাড়তি দাম ও গ্যাস সংকটসহ নানা কারণেই উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পণ্যের দামে। 

আটা-ময়দার দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বেকারি পণ্যে। সব ধরনের ব্রেডের দাম আগামীকাল থেকেই সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। যদিও এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যান্ডের ব্রেডের দাম বেড়েছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাউরুটি, বিস্কুট ও বেকারি পণ্যের দাম বেড়েছে। ৪৬০ গ্রাম ওজনের বিভিন্ন কোম্পানির পাউরুটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। ৪০০ গ্রাম ওজনের বেকারির কেকের দাম যেখানে মান ও প্রতিষ্ঠানভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা ছিল, তা এখন দাম বেড়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। 

এদিকে বেকারি মালিকরা জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে সব বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়বে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম ঠিক রেখে ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হবে।

হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেছেন, আমরা সবাই মিলে দাম সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দাম বাড়লে সেটা ২০ শতাংশ হারে বাড়াবে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ওজন কমিয়ে দাম সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ, ১০ টাকার রুটি ১০ টাকাই থাকবে। যেটা ৪০০ গ্রাম ছিল, সেটা হয়তো ৩৫০ গ্রাম বা ৩২০ গ্রাম হবে।

জালাল উদ্দিন বলেন, গত ৬ মাসে আটার দাম বেড়েছে, ময়দার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, ২৫ হাজার টাকার তেলের দাম ৩৬ হাজার টাকা হয়েছে। এখন মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া আর কী করার আছে। এর সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা, বাড়তি খরচ। আমরা টিকতে পারছি না।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে গ্যাস-বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে গেছে। চলমান সংকট দীর্ঘ হলে ছয় মাসের মধ্যে বেকারি খাত ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন সমিতির নেতারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত