একের পর এক অঘটন ঘটেই চলেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। অ্যাডহক কমিটি দিলেও মাঝেমধ্যে কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। কোনো ফেডারেশনে কমিটি না দিয়েই কার্যক্রম স্থগিত করা হচ্ছে। আবার দুই মাস না যেতেই অ্যাডহক কমিটির ওপর দেওয়া হচ্ছে আরেকটি অ্যাডহক কমিটি। এশিয়ান গেমসের আগে এমন ভাঙা-গড়ায় নতুন বিপদে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। কারণ কুস্তিতে দেওয়া নতুন কমিটি তাদের এশিয়ান গেমসে দুজন কুস্তিগিরের সঙ্গে একজন কর্মকর্তার নাম পরিবর্তনের জন্য বিওএতে আবেদন করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম সভায় বসেই এ কথা জানান ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক লায়ন এমআর আলী।
কদিন আগেই দুই মাস পূরণ না হতেই ক্যারম ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি ভেঙে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। দুটি প্রজ্ঞাপনেই দেওয়া ছিল একই তারিখ (১৮ জুলাই ২০২৬) এবং একই স্মারক (নং-৩৪.০৩.০০০০.০০০.০০৪.৫৫.০০০১.২৪.২৫)। এবার কুস্তিতেও ঘটেছে একই ঘটনা। গত ১৮ জুলাই ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মো. দৌলতুজ্জামান খাঁনের স্বাক্ষর করা ঘোষিত প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং- ৩৪.০৩.০০০০.০০০.০০৪.৫৫.০০০১.২৪.১২) মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমানকে সভাপতি ও মেসবাহ উদ্দিন আজাদকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৭ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কমিটির মেয়াদ দুই মাস না যেতেই সম্প্রতি ওই তারিখ ও স্মারক একই রেখে কুস্তিতে নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে ক্রীড়া পরিষদ। সভাপতি হিসেবে আগের মেজর জেনারেল রিদওয়ানুর রহমানই আছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে আনা হয়েছে ব্যবসায়ী লায়ন এমআর আলীকে। যুগ্ম সম্পাদক পদেও রদবদল হয়েছে। দ্বিতীয় যুগ্ম সম্পাদক পদে শিরিন সুলতানার জায়গায় আনা হয়েছে কোষাধ্যক্ষ পদে থাকা একেএম আবদুল মুবিনকে। আর কোষাধ্যক্ষ পদে ফিরেছেন মাসুদ আক্তার মোবারকি।
সমস্যার সূত্রপাত এখানেই। কারণ এশিয়ান গেমসের জন্য এপ্রিলে ১৭ জনের দীর্ঘ তালিকা বিওএতে পাঠিয়েছিল কুস্তি ফেডারেশন। তবে জুনে সংক্ষিপ্ত তালিকায় দুজন কুস্তিগিরের সঙ্গে মাসুদ আক্তার মোবারকির নামও ছিল। কিন্তু ১৮ জুলাই আগের সাধারণ সম্পাদক মেসবাহ উদ্দিন আজাদকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে ক্রীড়া পরিষদ। যে কমিটি থেকে বাদ পড়েন মোবারকি। ফলে ২০ জুলাই দুই কুস্তিগিরের সঙ্গে কোচ হিসেবে ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক শিরিন সুলতানার নাম বিওএতে পাঠান আজাদ। কিন্তু সম্প্রতি ফের কমিটি পরিবর্তন হওয়ায় দৃশ্যপটে ফিরেছেন মোবারকি। আর বাদ পড়েছেন শিরিন। তাই ফের নড়েচড়ে বসেছেন কুস্তির কর্তারা। কমিটিতে না থাকায় শিরিনকে বাদ দিয়ে ফের মোবারকিকে কুস্তি দলের সঙ্গে পাঠাতে চাইছেন তারা। কারণ দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত তালিকায় দুবার নাম ছিল মোবারকির।
এ বিষয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমআর আলী বলেন, ‘আগের কমিটিতে মোবারকি ছিল না বলে তাকে এশিয়ান গেমস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এবার যেহেতু কমিটিতে শিরিন নেই, তাই আমরা বিওএতে মোবারকিকে এশিয়ান গেমসে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করব। যদিও দীর্ঘ ও প্রথম সংক্ষিপ্ত তালিকায় মোবারকির নাম রয়েছে।’ এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান মিডিয়াকে বলেন, ‘এনএসসির চেয়ারম্যানের অভিপ্রায়ে অ্যাডহক কমিটি সংশোধন করা হয়েছে। কমিটি ভেঙে নতুন করে করা হয়নি।’ এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর কথা, ‘কমিটি ভাঙা হয়নি, কয়েকজনের নাম সংশোধন করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং এনএসসির চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হকের অভিপ্রায়ে।’
নতুন কমিটি ঘোষণার পর নানা নেতিবাচক ঘটনার পেরিয়ে দীর্ঘ তালিকায় না থাকা কর্মকর্তাদের তালিকাভুক্ত করতে একবার গলদঘর্ম হতে হয়েছে বিওএ কর্তাদের। এশিয়ান গেমস আসন্ন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কুস্তির নতুন কমিটি নিয়ে আরেক বিপদে পড়তে যাচ্ছে বিওএ।