২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হলেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণ অর্থাৎ ফাইনাল ম্যাচটি কে আয়োজন করবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ। মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আত্মবিশ্বাসের সাথে ফাইনাল তাদের দেশে হবে বলে ঘোষণা দিলেও তাতে জল ঢেলে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বিতর্কের সূত্রপাত মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লাকজার এক বক্তব্যে। কাসাব্লাঙ্কার অদূরে বেনস্লিমানে নির্মাণাধীন বিশাল হাসান টু স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে বলে দাবি করে রাজনৈতিক এক সমাবেশে তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘বেনসলিমান শহরেই বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে। এটা কারও পছন্দ হোক বা না হোক, আর এ নিয়ে কেউ কথা বলতে চাইলে বলুক। শহরটি হবে বেনসলিমান, স্টেডিয়াম হবে হাসান ২ স্টেডিয়াম, এবং আমি আশা করি যে মরক্কোই এতে খেলবে।’
কাসাব্লাঙ্কা শহরের ৬০ কিলোমিটার দূরে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই বিশালাকার স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হচ্ছে মূলত ফাইনাল ম্যাচটিকে কেন্দ্র করেই।
তবে মরক্কোর এমন দাবির পরেই নড়েচড়ে বসেছে ফিফা। ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনের সূত্রমতে, স্পেনের বার্তা সংস্থা ইএফই-কে দেওয়া এক বক্তব্যে ফিফার মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘সংগঠনটি গত ৫ আগস্ট যেমন ঘোষণা করেছিল, ঠিক সেভাবেই উপযুক্ত সময়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এর আগে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছিল যে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে আগামী নির্বাচনে সমর্থনের বিনিময়ে মরক্কোকে ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ফিফা সেই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, ফাইনালের দাবি ছেড়ে দিতে নারাজ অপর যৌথ আয়োজক স্পেনও। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান রাফায়েল লুজান সংবাদমাধ্যমে নিজেদের জোরালো দাবি পেশ করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা সবাই এই যৌথ আয়োজক হওয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি... কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ফাইনাল কোথায় খেলা হবে তা একেবারে স্পষ্ট করা হয়নি। স্পেন, পুরুষ ও নারী উভয় ফুটবলেই বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফাইনাল আয়োজনের অধিকার রাখে।’
স্পেনের হাতে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু কিংবা বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু এর মতো বিশ্বমানের স্টেডিয়াম। অবশ্য এই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত নাম লেখায়নি আরেক আয়োজক দেশ পর্তুগাল। তবে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল আয়োজনের লড়াইয়ে কারা জিতবে সেটি বলে দিবে সময়ই।
চার ক্যাচ মিসেও ফিল্ডিংয়ে স্বস্তি, তবে জ্যোতির আক্ষেপটা ব্যাটিংয়েই