জার্মানির বিভিন্ন শহরে ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন লাখো মানুষ। সম্প্রতি একটি রাজ্য নির্বাচনে দলটির বড় ধরনের জয়ের পর দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জার্মানির প্রায় ২০টি শহরে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী বার্লিনের পাশাপাশি হামবুর্গ ও মিউনিখেও বড় জমায়েত হয়। এএফডি নিষিদ্ধের দাবিতে এসব বিক্ষোভের আয়োজন করে 'প্রুফ' নামের একটি প্রচারাভিযান সংগঠন। আয়োজকদের হিসাবে, সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল 'এখনই এএফডি নিষিদ্ধ করো' এবং 'গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই'—এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড।
আরেকটি প্রচারাভিযান সংগঠন ক্যাম্প্যাক্টের প্রধান ক্রিস্টোফ বাউৎস বলেন, 'সংবিধানবিরোধীদের সরকার পরিচালনার ক্ষমতায় পৌঁছানো ঠেকাতে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছেন।' ক্যাম্প্যাক্টের হিসাবে, হামবুর্গে প্রায় ২৫ হাজার এবং মিউনিখে ১২ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। পুলিশের হিসাবে, বার্লিনে পৃথক বিক্ষোভগুলোতে আরও কয়েক হাজার মানুষ যোগ দেন।
তবে এএফডিও বার্লিনে পাল্টা সমাবেশ করেছে। এতে দলটির বার্লিন শাখার শীর্ষ নেতা এবং আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রধান প্রার্থী ক্রিস্টিন ব্রিঙ্কার উপস্থিত ছিলেন।
এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনে এএফডির বড় জয়। ৬ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়। এর বিপরীতে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎসের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পেয়েছে মাত্র প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট। জার্মান রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী সিডিইউএর তুলনায় এএফডির এই বিশাল ব্যবধান দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ নীতির জন্য পরিচিত এএফডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অল্পের জন্য পিছিয়ে রয়েছে। দলটি এখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা করছে। শেষ পর্যন্ত এএফডি সরকার গঠন করতে পারলে ১৯৪৫ সালে নাৎসি যুগের অবসানের পর এই প্রথম জার্মানির কোনো রাজ্যে একটি উগ্র ডানপন্থী দল সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।
এএফডি এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা জার্মানিতে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির নাৎসি অতীত এবং সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর দীর্ঘ রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কারণে দলটির উত্থান অনেকের কাছেই বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ৮৩ আসনের রাজ্য পার্লামেন্টে এএফডি ৩৯টি আসন পেতে পারে—সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৪২ আসনের চেয়ে মাত্র তিনটি কম। ফলে সরকার গঠন করতে দলটির অন্তত একটি জোটসঙ্গী প্রয়োজন হবে।
কিন্তু জার্মানির প্রধানধারার রাজনৈতিক দলগুলো এখন পর্যন্ত এএফডি এর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে এসেছে। দেশটির রাজনীতিতে এই অবস্থানকে দীর্ঘদিন ধরে ‘ফায়ারওয়াল’ নীতি বলা হয়। রাজ্য বা জাতীয়—কোনো পর্যায়েই এখন পর্যন্ত এএফডি কোনো জোট সরকারের অংশ হতে পারেনি।