ব্রিকস সম্মেলন: খনিজ অস্ত্রায়ন বন্ধের আহ্বান মোদির, পাশে শি জিনপিং

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে মোদি বলেন, 'বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব কোনো দেশই এড়িয়ে যেতে পারছে না।'    

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে 'অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার' করার ঝুঁকি সম্পর্কে ব্রিকস নেতাদের সতর্ক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বের যৌথ অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এতদিনের অর্জনকে নষ্ট করে দিতে পারে। বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কোনো সংকটই আর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খবর এনডিটিভি। 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে মোদি বলেন, 'বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব কোনো দেশই এড়িয়ে যেতে পারছে না।'    

তিনি বলেন, 'বিশ্বে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মহামারি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, আজকের পরস্পরনির্ভর বিশ্বে কোনো সংকটই আর কেবল একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।' 

ভারত মন্ডপে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে শীর্ষ নেতারা, ছবি: এনডিটিভি

তিনি আরও বলেন বলেন, 'এ কারণেই ব্রিকসের মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো সময়মতো চিহ্নিত করা, সেগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।'  

মোদি জানান, এই লক্ষ্য সামনে রেখে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় একটি ব্রিকস সমন্বিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সদস্য দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এ ব্যবস্থার আওতায় আগাম সতর্কবার্তার জন্য তথ্য সমন্বয়ের নির্দেশিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের এই অধিবেশনে মোদির বক্তব্য শোনেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তোসহ অন্যান্য নেতা।

মোদি বলেন, 'ভারতের সভাপতিত্বে আমরা চারটি স্তম্ভকে সামনে রেখে কাজ করেছি—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়ন। আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থনে আমাদের যৌথ লক্ষ্যকে একটি পারস্পরিক লাভজনক বাস্তবতায় রূপ দিতে পেরেছি—এতে আমি আনন্দিত।' 

বক্তব্য দেওয়ার আগে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস নেতারা একটি দলীয় ছবিতে অংশ নেন। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, মিসর, বুরুন্ডি, উগান্ডা ও নাইজেরিয়ার নেতাদের সঙ্গে মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।

এর আগে গতকাল প্রকাশিত নয়াদিল্লি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের ক্রমবর্ধমান বিস্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়। পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে- এমন পদক্ষেপ থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানায় ব্রিকস।  

১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে শীর্ষ নেতারা, ছবি: সংগৃহীত  

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ব্রিকসের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয় ঘোষণায়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের জন্য আরও জোরালো আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস।

ঘোষণায় একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংরক্ষণবাদী নীতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ইচ্ছেমতো শুল্ক বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব বাণিজ্যের নামে আরোপিত বিভিন্ন বাধা বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত