সুইডেনে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফল দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। জয়ী হলে প্রথমবারের মতো সরকারে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে উগ্র ডানপন্থী দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস। অন্যদিকে, মধ্য-বাম জোট জয়ী হলে সুইডেন দীর্ঘদিনের উদারপন্থী রাজনৈতিক ধারার দিকে আবারও ফিরে যেতে পারে। খবর রয়টার্সের।
১৩ সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একাধিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোটের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে মধ্য-বাম বিরোধী জোট।
তবে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের জন্য লড়াই এখনো উন্মুক্ত। চার বছরের পুরো মেয়াদে জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা ক্রিস্টারসন নির্বাচনী প্রচারের শেষ কয়েক সপ্তাহে ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন। একই সময়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা ম্যাগদালেনা আন্দেরসনের জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়েছে।
ক্রিস্টারসন জানিয়েছেন, তার জোট নির্বাচনে জয়ী হলে উগ্র ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটসকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'আমরা দল, ভোটার এবং বিভিন্ন ইস্যুকে এক জায়গায় এনে যৌথভাবে কাজ করতে পারি। এ কারণেই আমরা কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।'
সমালোচকদের অভিযোগ, ক্রিস্টারসন সরকারের নীতিগুলো নাগরিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে। পাশাপাশি অভিবাসীদের সুইডিশ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে আরও বেশি খাপ খাওয়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে—কখনো নানা সুবিধার প্রলোভন, আবার কখনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে।
অন্যদিকে, ডানপন্থী জোটের সমর্থকদের দাবি, তাদের নীতির কারণে দেশটিতে গ্যাং সহিংসতা কমেছে এবং অভিবাসন হ্রাস পেয়েছে। তাদের মতে, নির্বাচনে জয় এ নীতির প্রতি জনগণের সমর্থনেরই প্রমাণ হবে এবং আগামী বছরগুলোতে একই ধরনের নীতি আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়নের পথ খুলে দেবে।
সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের নির্বাচনী সাফল্য ইউরোপের ক্রমবর্ধমান উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর জন্যও উৎসাহের কারণ হতে পারে। চলতি মাসে জার্মানির একটি রাজ্য নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন করে গতি এসেছে।
১০ মিলিয়ন মানুষের দেশ সুইডেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ন্যাটোতে যোগ দেয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় দেশটির ভোটকেন্দ্রগুলো খুলেছে। ভোটগ্রহণ শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়। এরপরই বুথফেরত জরিপ প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।