সালাউদ্দিনের সঙ্গে 'ঝামেলা' নেই সুজনের

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

জাতীয় দলের কোচিংয়ে ফেরার দরজা খোলা রেখেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে একাধিকবার বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করলেও কখনোই পাকাপাকিভাবে এই পদে আসা হয়নি সাবেক এই অধিনায়কের। এবারও বোর্ড চাইলে জাতীয় দলের কোচ হতে প্রস্তুত তিনি।

আজ সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলোচনার সুজন বলেন, 'সেটা তো আমি বলতে পারব না। যদিও আমার ব্রেড অ্যান্ড বাটার কোচিং। বোর্ড যদি মনে করে আমি যোগ্য, তারা যদি ডকে। আমি অবশ্যই নেব।' আপাতত সিবির ব্যসভিত্তিক বিভাগের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নতুন এই দায়িত্ব নিয়েও আশাবাদী সুজন, 'প্রেসিডেন্ট (বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল) দায়িত্ব দিয়েছেন। উনি হয়তো ভেবেছেন আমি এখানে অবদান রাখতে পারব। সেজন্য উনাকেও ধন্যবাদ। আমি চেষ্টা করব যতটা সম্ভব অবদান রাখার।'

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং হার পারফরম্যান্স ইউনিওটের প্রধান কোচ হয়েছেন। তার সঙ্গে সুজনের সম্পর্ক নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে নানা আলোচনা আছে। তবে দুজনের মধ্যে কোনো 'ঝামেলা' থাকার কথা সরাসরি নাকচ করেছেন সুজন। বরং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে সালাউদ্দিনের প্রশংসাই করলেন তিনি, 'এটা তো মানুষ বলে। কী ঝামেলা? আমি আর সালাউদ্দিন তো এটা মনে করি না। ছোটবেলা থেকে দুজন দুজনকে ভালোভাবে চিনি, একসঙ্গে খেলেছি। এরপর দুজনই কোচিংয়ে এসেছি। ওর সঙ্গে সবসময় আমার সুসম্পর্ক। ও কোচ হিসেবে নিজেকে অনেক পরিণত করেছে, অনেক বড় পরিসরে কোচিং করাচ্ছে।' সঙ্গে যোগ করেন, 'আমার মনে হয় না ওর সঙ্গে কখনো কোনো সমস্যা ছিল। আমাদের সবসময়ই কথা হয়, ফোনেও কথা হয়। কোচিংয়ে দুজন দুই দলকে কোচিং করিয়েছি—কখনো ও চ্যাম্পিয়ন, কখনো আমি। এটার জন্য তো সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কথা না। বরং ও ভালো করলে আমি খুশি হই।'

দেশি কোচদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও সুজন। তাঁ মতে, ক্রিকেটের মৌলিক বিষয়গুলো সর্বত্র একই, তাই শুধু বিদেশি কোচ হলেই বাড়তি সুবিধা মিলবে, এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন তিনি। সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, 'ক্রিকেট রকেট সায়েন্স না। ক্রিকেটের ভাষা একটাই। ওরা ইংরেজিতে বলে, আমরা বাংলায় বলি। ইনসুইং বোলার কীভাবে ইনসুইং করবে, গ্রিপ কী হবে—সব দেশে একইভাবে চর্চা হয়। তাই কোচরা পিছিয়ে আছে, এটা বিশ্বাস করতে চাই না।'

বিশেষায়িত বিদেশি কোচের প্রয়োজন হলে পরামর্শক হিসেবে তাদের নেওয়ার পক্ষে সুজন। তবে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বে দেশি কোচদের গুরুত্ব বেশি বলে মনে করেন তিনি। বিদেশি কোচদের ট্যুরভিত্তিক কাজের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেন, 'লং টার্ম পদে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশিরা অনেক সময় ট্যুর বেজড আসে। ট্যুর শেষে ১৫ দিনের ছুটি, কেউ আসে এক মাস পর। ওই সময় বাচ্চারা কাকে নিয়ে কাজ করবে? লোকালরা থাকলে ট্যুর শেষেও কাজ করতে পারে।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত