গার্মেন্টস শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তা ছাড়াই শতভাগ দেশি কর্মসংস্থান সম্ভব: মাহদী আমিন

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তা ছাড়াই শতভাগ দেশি কর্মসংস্থান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে। সঠিক শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে একদিন বাংলাদেশের পেশাজীবীরাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চ পদে কাজ করবেন।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, তৈরি পোশাক খাত প্রায় অর্ধশতকের পুরোনো হলেও এখনো কিছু কারখানা ও বায়িং হাউসে বিদেশি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করতে পারলে এই শিল্প পুরোপুরি দেশীয় জনবলের মাধ্যমে পরিচালনা করা সম্ভব।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে দেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও চাহিদাসম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে, সে ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এ জন্য কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতেও পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয় উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, বন্ধ কারখানা চালু করা, উদ্যোক্তাদের কাছে প্রণোদনা সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্পকে আধুনিকায়নে কাজ চলছে। বিজিএমইএ ও বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাক খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির অজুহাতে কর্মসংস্থান কমানো সরকারের লক্ষ্য নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত কোর্স চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডিপ্লোমা পর্যায়ে সময়োপযোগী শিক্ষা চালু করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের কারখানায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং শিল্পের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে হবে।

তরুণ উদ্ভাবকদের সহায়তার বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, নতুন স্টার্টআপের জন্য প্রাথমিক মূলধন ও তহবিল দেওয়ার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে একটি কার্যকর শিল্প-ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আলোচনা সভায় বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য ফারজানা আফরোজ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য ইঞ্জিনিয়ার ড. আইয়ুব নবী খানসহ শিল্প, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এর আগে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ উদ্বোধন করেন। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মেলার দ্বিতীয় দিনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত